মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে গোলু সিং ওরফে টাইগারকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। অন্য দিকে, খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ধৃত রাজকুমার সিংয়ের বন্ধু জ্ঞানেন্দ্র সিং ওরফে মনুকেও গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। চন্দ্রনাথ খুনের মামলাতেই রাজকুমারকে মুজাফ্ফরনগর থেকে গ্রেপ্তার করেছিলেন তদন্তকারীরা। ধৃত গোলু জ্ঞানেন্দ্রর বন্ধু। জ্ঞানেন্দ্রকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সিবিআই ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে জ্ঞানেন্দ্রর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই পুরোনো মামলাতেই বলিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলু সিং ওরফে টাইগারকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। বালিয়ার একটি আদালত তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড দিয়েছে। গোলুকে কলকাতায় নিয়ে এসে বিস্তারিত জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, গোলু বানসডিহ রোড থানার বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। চন্দ্রনাথ রথ খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সে সরবরাহ করেছিল। সেই অস্ত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। সিবিআই মনে করছে, গোলুকে জেরা করেই চন্দ্রনাথকে খুনে আর কারা জড়িত, সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পরে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তিনি গাড়িতে মধ্যমগ্রামের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন। সেই সময়ে রাস্তার মাঝে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। গুরুতর জখম চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক। ঘটনার পরেই সিট গঠন করে রাজ্য পুলিশ। প্রথমে উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বক্সার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও একজনকে। সে শার্প শুটার ছিল বলে অভিযোগ।
এর মধ্যে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। সিটের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেখান থেকে উঠে আসে অন্য সন্দেহভাজনদের নাম। এর পরেই রাজকুমার সিং নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তিনিও শুটার ছিলেন বলে খবর। এর পরেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে সিবিআই। বারাণসী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও একজনকে। এর পরে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।