• দুপুরে বিকট শব্দে কাঁপল মন্দিরবাজার!
    আজকাল | ০৬ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম হল তিন কিশোরী। শুক্রবার দুপুরে মন্দিরবাজার থানার নিশাপুর মল্লিকপাড়া এলাকায় ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ একটি পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা বোমা আচমকাই বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয় তিন কিশোরী। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নিশাপুর মল্লিকপাড়ার তৃণমূল নেতা আইনুল হক মল্লিকের বাড়ির পাশেই লুকিয়ে রাখা ছিল ওই বোমা। কীভাবে ওই বিস্ফোরক সেখানে এল এবং কতদিন ধরে তা পড়ে ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আহত কিশোরীদের উদ্ধার করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরের দিকে এলাকায় কয়েকজন কিশোরী খেলাধুলা বা যাতায়াতের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হয়। আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী নাইয়ারহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা দু’জনের প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দিলেও, এক কিশোরীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপি নেতা অশোক পুরকায়েত দাবি করেছেন, ভোটের আগে এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেতা আইনুল হক মল্লিক বোমা মজুত করে রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা থাকায় সেই বোমা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ওই বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় না করায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ বিজেপির।

    অশোক পুরকায়েত বলেন, “ভোটের আগে এলাকায় অশান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে বোমা মজুত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। কিন্তু পরে ওই বোমাগুলো সরানো হয়নি বা নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। আজ সেই গাফিলতির বলি হল নিরীহ কিশোরীরা। আমরা চাই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক এবং প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”

    অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল খান জানান, দুপুরবেলা হঠাৎ বিকট শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা কিছু বুঝতে পারিনি। বাইরে বেরিয়ে দেখি তিনজন কিশোরী আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চারপাশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা তড়িঘড়ি তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই। দু’জন কিছুটা সুস্থ থাকলেও একজনের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। পরে তাকে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

    ইকবাল খানেরও অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বোমা মজুদের আশঙ্কা ছিল। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত এবং প্রশাসনের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের উৎস কী, কোথা থেকে বোমা এল, এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এলাকায় নতুন করে কোনও বিস্ফোরক মজুত রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।

    তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল নেতার দিকে উঠলেও, পুলিশি তদন্তের আগেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ফলে মন্দিরবাজারের নিশাপুর মল্লিকপাড়ার এই বিস্ফোরণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়ছে।

    নিরীহ কিশোরীদের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এলাকায় যদি সত্যিই বোমা মজুত থেকে থাকে, তবে তার দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন। অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। এখন নজর প্রশাসনের তদন্তে। 
  • Link to this news (আজকাল)