১০ দিন...! নয়াচরে মৎস্যজীবীদের আড়ালে ভিনদেশি দুষ্কৃতীদের ডেরা ভাঙতে বড় পদক্ষেপ
News18 বাংলা | ০৬ জুন ২০২৬
: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নয়াচর—হলদি নদীর তীরে জেগে ওঠা একটি দ্বীপ। এই চরে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। এবার এই নয়াচরকে কেন্দ্র করে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। কারণ এই নয়াচর দ্বীপ প্রশাসনের কাছে অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এই দ্বীপে বাড়ছে দুষ্কৃতিতে দৌরাত্ম। অভিযোগ মৎস্যজীবীদের আড়ালে ভিনদেশীরা এই দ্বীপে আস্তানা গড়ে তুলেছে। তাই এবার দ্বীপও দখলমুক্ত করছে চাইছে প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের ‘মীনদ্বীপ’ নয়াচর পরিদর্শন করলেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।
মূলত মৎস্যজীবী অধ্যুষিত এই দ্বীপে একদিকে যেমন বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে মাছ চাষ চলছে, তেমনই মৎস্যজীবীদের আড়ালে ভিনদেশি দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার স্বার্থে এবং সরকারি রাজস্ব পুনরুদ্ধারে এবার পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মৎস্য দফতরের মালিকানাধীন এই দ্বীপের পুকুর ও জলাশয়গুলি বেআইনিভাবে দখল করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার মাছ চাষ চলছে, যার কোনও বৈধ নথি বা লিজ নেই। এই পরিস্থিতিতে মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত পুকুর ও জলাশয় সম্পূর্ণ খালি করে সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। দ্বীপে গড়ে ওঠা সমস্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। মাছ ধরার জাল এবং অন্যান্য সমস্ত যন্ত্রপাতি অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে।
যৌথ প্রশাসনিক পরিদর্শন ও নিরাপত্তা জোরদার নয়াচরে। নয়াচরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্বীপে এক হাই-প্রোফাইল যৌথ পরিদর্শনে যান প্রশাসনিক কর্তারা। এই দলে ছিলেন, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, হলদিয়ার মহকুমা শাসক সুরভি সিংলা-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। পরিদর্শনকালে দ্বীপে বসবাসকারী ও মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র (ID Card) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য—বহিরাগত ও ভিনদেশি দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্বীপ থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এর আগে দ্বীপের জলাশয়গুলি বৈধভাবে লিজ দেওয়ার জন্য দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হলেও, সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অথচ অবৈধভাবে মাছ চাষ রমরমিয়ে চলছে, যা থেকে রাজ্য সরকার কোনও লিজের টাকা বা রাজস্ব পাচ্ছে না। এবার সেই বেআইনি কারবার বন্ধ করে আইনি পথে লিজ দিয়ে রাজস্ব বাড়াতে চাইছে মৎস্য দফতর। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “দেশের সুরক্ষার স্বার্থে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা যাতে এই এলাকায় আস্তানা গাড়তে না পারে, তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এখানে মাছ চাষ করছেন, তাঁদের নিজেদের এলাকায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।” সব মিলিয়ে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নয়াচর নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।