• দোকানে মাংস কেটে দিন গুজরান, তৃণমূল আমলে কোটি টাকার সম্পত্তি! রকেটের গতিতে উত্থান নাসিরের
    প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
  • তৃণমূলের আমলে রকেটের গতিতে উত্থান। মাংস কেটে দিন চলত সংসার। বোলপুরের সেই নাসির শেখ এখন কোটি টাকার মালিক। বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর। তৃণমূল আমলে কীভাবে এই প্রভূত অর্থ, ক্ষমতা হল তাঁর? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বীরভূমে। ভোটে হারার পর থেকেই ওই তৃণমূল নেতা পলাতক বলে খবর। একদিকে অবৈধ টোল করবার, অন্যদিকে, বেআইনি বালি তোলা ও পাচারের মাধ্যমেই এই বিশাল সাম্রাজ্য তৈরি! এমনই দাবি করছে স্থানীয়রা। তাঁর নিম্নবিত্ত জীবন থেকে উচ্চবিত্তে কয়েক বছরে পৌছে যাওয়া, রীতিমতো এখন চর্চায়।

    অভিযোগ, একদিকে অবৈধ টোল করবার, অন্যদিকে বালি উত্তোলন করেই কোটি কোটি টাকার নিয়ন্ত্রক প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের বদান্যতায়। যেন রঙিন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। তাঁর বৈভবের ইতিবৃত্তকে ঘিরে। বিধানসভা নির্বাচনের পালাবদলের পর একদিকে যেমন বোলপুরের অবৈধ টোল কারবারি চর্চায় তেমনই সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও বেশ যথেষ্ট আলোচনায় নাসির শেখ। কী নেই তাঁর। দেউচায় পূর্ত দপ্তরের রাস্তার উপর জেলা পরিষদের নাম ব্যবহার করে অবৈধ টোল সাম্রাজ্য। শুধু মহম্মদবাজার এলাকাতে নয় জেলার ইলামবাজার, বোলপুর পুরসভার প্রায় ৬টি জায়গায় চলত টোল ট্যাক্সের নামে অবৈধ টাকা তোলার সিন্ডিকেট। একেবারে বেআইনি টোল গেট তৈরি করে প্রায় তৃণমূলের শাসনকালে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই শুধু চারচাকা নয় মালবাহী গাড়ি ট্রাক ডাম্পার থেকে জোরপূর্বক নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি টাকা তোলা হত।

    আর সবেতেই রশিদ দেওয়া হতো হয় জেলা পরিষদের নয়তো বোলপুর পুরসভার। পাশাপাশি গরুপাচার মামলাতেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এবং বারংবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি এবং সিবিআই। কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি, রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ফ্লাট, গাড়ির বহর, ডাম্পারের পর ডাম্পার সাজানো সবই এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসের মধ্যেও পার্কিংয়ের টেন্ডার থেকে শুরু করে লালবাঁধ-সহ বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষ তাঁরই দখলে। তবে বর্তমানে রাজ্য সরকারের করা প্রশাসনিক নির্দেশিকায় সমস্ত বেআইনি ড্রপগ্রেট এবং অবৈধ টোল আদায় বন্ধ করেছে প্রশাসন। তবে নাসির শেখ সবসময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যেই থেকেছে। 

    স্থানীয় বাসিন্দা রিন্টু দাস ও সালেম শেখ বলেন,”তৃণমূলের আমলে অগাধ সম্পত্তির মালিক নাসির। গুরুপল্লি এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি। তাঁর সামনেই সবসময় দাঁড়িয়ে থাকে গোটা দশেক দেশি-বিদেশি দামী কোম্পানির গাড়ি। এছাড়াও অজস্র ডাম্পার।” তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে টোলের টাকা পুরসভার কোন তহবিলে জমা পড়ত এবং কার নির্দেশে অঙ্গুলিহেলনে এতদিন ধরে অবৈধ কারবার চলছিল। তবে ভোট পরবর্তী বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে বোলপুরে টোল ইস্যু সহ নাসির শেখের অবৈধ সাম্রাজ্য এখন রাজনৈতিক তারকার অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। যা জন-অসন্তোষ এবং স্থানীয় রাজনীতির বদলে যাওয়ার সমীকরণ। একাংশ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের দাবি, নাসির শেখকে দিয়েই তৃণমূলের ফান্ড একত্রিত হত।

    একদিকে অবৈধভাবে ই-টেন্ডার ছাড়া টোল আদায়, বালি কারবার সমানভাবে চলত। তবে বোলপুরের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জায়গা দখল করে বালি এবং পাথর স্তূপ করে অবৈধ ব্যবসারও কারবারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এখন বোলপুর শান্তিনিকেতনে পাড়ায় পাড়ায় চায়ের দোকানে তাঁর উত্থান এবং বিপুল সম্পত্তি আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু। এ বিষয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন,”মানুষের সরকার আসার পরেই অবৈধ টোল কারবার বন্ধ করা হয়েছে। আগামী দিনে অবৈধ কারবারীদের আইনের পথেই ব্যবস্থা নেবে সরকার।” তবে এ বিষয়ে বারংবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও নাসির শেখের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বিলাসবহুল বৈভব এখন বেশ চর্চায়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)