• অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’
    প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
  • তৃণমূলের গঠন। কঠিন লড়াই। শাসকের আসনে দল। আজ, গদিচ্যুত তৃণমূল। ‘বিদ্রোহ’ দলের অন্দরে। ‘আসল তৃণমূল’ কারা? উঠেছে সেই প্রশ্ন। তৃণমূল অস্তাচলে যাওয়ার দশা! ঘাসফুল শিবিরের ২৮ বছরের ইতিহাসের কিছুই স্থায়ী নয়। অবশ্য এটাই রাজনীতির নিয়ম। তবে তৃণমূলে ‘স্থায়ী’ ছিল রাজ্য সভাপতির পদের ব্যক্তিটি। সেই ‘পার্মানেন্ট প্রেসিডেন্ট’ দায়িত্ব থেকে সরলেন সুব্রত বক্সী। শুক্রবার কালীঘাটে জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকে দলের জন্মলগ্নের রাজ্য সভাপতি প্রিয় ‘বক্সীদা’কে অব্যাহতি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ হল ‘বক্সীদা’ যুগ।

    কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদ থেকে সুব্রত বক্সীর রাজনাীতি শুরু। পরে ব্যাঙ্কের চাকরি। মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করে সঙ্গে চান তাঁকে। ছেড়ে দেন ব্যাঙ্কের স্থায়ী চাকরি। হন দলের রাজ্য সভাপতি। সেই শুরু। ২৮টি বছর একই পদে থেকেছেন তিনি। দেখেছেন দুঃখ থেকে সুখ। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূল ফের বিরোধী আসনে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে ‘বক্সীদা’র। সুব্রতর আর্জি মেনে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন মমতা। তাঁর জায়গায় আসলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

    ২০২৩ সালে সুব্রত বক্সী রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চান। ‘এখন সময় নয়’, থামিয়ে দেন মমতা। তারপর থেকে আর সেই বিষয়ে কথা ওঠেনি। ছাব্বিশের নির্বাচনের যুদ্ধে তৃণমূলের হারের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বক্সী। তাঁর পরিবারের তরফ থেকে রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার দাবি তোলা হয়। অবশেষে সেই দাবি মানলেন নেত্রী। তবে রাজ্য সভাপতি পাশাপাশি জাতীয় সহ-সভাপতি ছিলেন সুব্রত। সেই পদটা অবশ্য রইল। 

    ২০২১ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ভবানীপুরের  পার্টি অফিসে গিয়ে ‘বক্সীদা’কে প্রণাম করেন। সেই সময় আবেগতাড়িত সুব্রত বলেছিলেন, “আমার যা আছে তোকে দিয়ে দেব।” তারপরই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি চান। তবে বিশ্বস্ত  বক্সীদাকে সেই অনুমতি দেননি মমতা। আজ, সরলেন ‘পার্মানেন্ট প্রেসিডেন্ট’
  • Link to this news (প্রতিদিন)