তৃণমূলে রদবদল, রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা; ছাঁটা হল অভিষেকের ক্ষমতা
eTV Bharat | ০৫ জুন ২০২৬
কলকাতা, 5 জুন: নির্বাচনে ভরাডুবি ও দলে ভাঙনের কড়া হাতে হাল ধরার চেষ্টা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ দলের সমস্ত পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন করে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন মমতা ৷ শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তৈরি হল চূড়ান্ত রূপরেখা৷ সুব্রত বক্সির জায়গায় নতুন রাজ্য সভাপতি হলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৷ ছাঁটা হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা ৷
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ৷ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং আগামী দিনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের রণনীতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল, চরম বিপর্যয়ের পর দলকে দ্রুত চাঙ্গা করা এবং কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ৷
সাংবাদিকদের সামনে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,"ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হল। সেই মিটিংয়ে 26 জন ফিজিক্যালি প্রেজেন্ট ছিল। আর বাইরের স্টেটের 5 থেক 6 জন ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।" সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বভারতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকছেন ৷ সর্বভারতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেন। সুব্রত বক্সির পরিবর্তে রাজ্যস্তরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভানেত্রী পদে দায়িত্ব পেয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে থাকছেন কুণাল ঘোষ। এছাড়া যুব সভানেত্রী পদে সায়নী ঘোষ, মহিলা সভানেত্রী পদে মালা রায় এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের(TMCP) সভানেত্রী হিসেবে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয় ৷
দলীয় সংগঠনকে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে মজবুত করতে এদিন সংগঠনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে । আইএনটিটিইউসি (INTTUC) সভাপতি হিসেবে মলয় ঘটক, হকার সংগঠনের বিশেষ দায়িত্বে মদন মিত্র এবং লিগ্যাল সেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনা হয়েছে ৷ জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, সমস্ত ক্ষমতা দলের চেয়ারপার্সনকে দেওয়া হয়েছে এবং জেলাভিত্তিক কারা সভাপতি হবেন, তা আগামী 7 দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চূড়ান্ত করবেন।
সংগঠন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে এদিন তীব্র সুর চড়িয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, যেভাবে নির্বাচনোত্তর হিংসা হয়েছে, তার জন্য মাঠে নামা এবং আইনি লড়াই দুটোই সমানভাবে করতে হবে। বিজেপি যেভাবে বর্বরতা চালাচ্ছে, দলের কর্মীদের মারধর করছে এবং সিবিআই অবৈধভাবে সবাইকে গ্রেফতার করছে, তার বিরুদ্ধে আগামী দিনে জোরদার লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি। নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের একাংশের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি, আইনি লড়াইয়ের বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিধানসভায় স্পিকার কর্তৃক বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পিটিশন ফাইল করার কথাও জানান তিনি।
এদিনের সাংবাদিকদের দলবদল সংক্রান্ত প্রশ্নে রীতিমতো মেজাজ হারাতে দেখা যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলের 18 জন সাংসদ পদ্মশিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্ষুব্ধ কল্যাণ বলেন, "একজনকে সব উত্তর দেওয়া যায় না। চিৎকার করলেই সাংবাদিকতা হয় না। গল্প আমরা জানি না, গল্প আপনি জানেন। আপনি 18 জনের নাম দিন ৷ তবে আমি কথা বলব আপনার সঙ্গে। না-হলে আপনি কথা বলে আমার প্রেশারটাকে ডিস্টার্ব করবেন না।"
সংবাদমাধ্যমের একাংশকে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, চব্বিশ ঘণ্টা নাটক বা সার্কাস না-করতে। সব মিলিয়ে, কালীঘাটের এই বৈঠক থেকে নতুন ও পুরোনো মুখের ভারসাম্যে সংগঠনকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আঘাত হানার রণনীতিও সুনির্দিষ্ট করল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ৷