কলকাতা, 5 জুন: স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পরেই নিউ আলিপুরের অন্যতম ক্লাব সুরুচি সংঘে ভাঙচুর হল। শুক্রবার দুপুরের পর আচমকাই সুরুচি সংঘে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারাই সুরুচি সংঘের ক্লাবের তালা ভাঙা হয়। ক্লাবের ভিতরেও ভাঙচুর করা হয়৷ ক্লাব থেকে একটি বিলাসবহুল বেডরুমের হদিশ মিলেছে৷
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কলকাতায় দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ সুরুচি সংঘের৷ এই ক্লাবের পুজো দেখতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ৷ ওই ক্লাবের সম্পাদক স্বরূপ বিশ্বাস৷ তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ সেই সময় নিউ আলিপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ৷
শুক্রবার দুপুরের পর সেই বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘে৷ সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে শুরু করেন৷ তাঁরা মূলত স্বরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপের দাদা প্রাক্তন অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক চেহারা নেয়৷ ক্লাবের বাইরে থেকে ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া হয়৷ তার পর তালা ভেঙে ক্লাবে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা৷
ক্লাবের ভিতরেও ভাঙচুর চালানো হয়৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একদল যুবক ক্লাবে ঢুকে বিভিন্ন ঘর তল্লাশি চালান এবং সেখানে থাকা নানা সামগ্রী বাইরে বের করে আনেন। তাঁদের অভিযোগ, ক্লাব পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছিল। ঘটনাস্থল থেকে নতুন শাড়ি, পানীয় জলের বোতল-সহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এমনকি বেশ কিছু মাটির ভাঁড় দেখা যায়। যেগুলো অনুমান লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া একটি বিলাসবহুল বেডরুমের হদিশও মিলেছে৷ ঘরটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল৷ তবে এসি মেশিনটি এদিন দেখা যায়নি বলে জানা গিয়েছে৷ বেডরুমের পাশে সাজানো-গোছানো শৌচালয়-স্নানঘর-সহ আরও বেশ কিছু জিনিস পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ তবে এই নিয়ে ক্লাবের কারও কোনও বক্তব্য মেলেনি৷ এমনকী, পুলিশ-প্রশাসনের তরফেও কেউ কোনও মন্তব্য করেননি৷
প্রসঙ্গত, সুরুচি সংঘের পুজোর থিমের আকর্ষণ শুধু নয়, সেখানে পুজোর ক’দিন হেভিওয়েটদের দেখা যেত৷ এই পুজোর উদ্বোধন করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অথচ সেই ক্লাবের বিরুদ্ধে মানুষের এত ক্ষোভ কেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে? এদিন অবশ্য বিক্ষোভকারীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ক্লাবের কর্তারা অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত৷
প্রসঙ্গত, স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে ক্ষোভ অনেকদিন ধরেই ছিল৷ সেটা মূলত টলিপাড়ার কলাকুশলীদের একাংশের অভিযোগ৷ কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় অনেকেই পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার৷ তবে রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরি হতেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানো এবং মহিলা সাজশিল্পীর সঙ্গে অশালীন আচরণ অভিযোগ সামনে এসেছে। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে শ্লীলতাহানি ও খুনের হুমকির অভিযোগ দায়ের হয় নিউ আলিপুর থানায়৷
সেই মামলায় বৃহস্পতিবার স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে 14 দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এখন দেখার সুরুচি সংঘে দুর্নীতির যে অভিযোগ স্থানীয়রা তুলছেন, সেই নিয়েও কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না!