দিল্লির মালব্য নগরে হোটলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দিল্লির সরকার। ওই হোটেলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। নিয়মভঙ্গ করেই ওই হোটেল চালানো হচ্ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আঙুল উঠেছে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও। তাঁরা নিজেদের কর্তব্যে অবহেলা করেছেন বলেও অভিযোগ। আর, এ বার তাঁদেরকেও সতর্ক করল দিল্লি সরকার। অবহেলার জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, ব্যক্তিগত আর্থিক দায়বদ্ধতাও আরোপ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার আগুন লাগে মালব্য নগরের একটি ব্রেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। এই নিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি দিল্লিতে অবস্থিত একই রকমের হোটেলগুলির নিরাপত্তা এবং সেগুলি নিয়ম মেনে চলছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। ওই বৈঠকে দিল্লি জুড়ে ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একাধিক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, যখন দায়িত্ব বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, তখন কোনও দুর্ঘটনার পর জবাবদিহি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকেই আধিকারিকদের সতর্ক করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। অবৈধ নির্মাণ এবং গুরুতর আইন লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পত্তির মালিক এবং এই ধরনের কাজ চলতে দেওয়ার জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ধরনের ঘটনার পরে দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ। দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, কাজে অবহেলা, যোগসাজশ বা পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। ওই আধিকারিকদের বেতন, পেনশন, অবসরকালীন সুবিধা এবং ব্যক্তিগত সম্পদও আদায় প্রক্রিয়াভুক্ত হতে পারে। এরই সঙ্গেই কোনও আধিকারিক যদি সহযোগী, অবহেলাকারী বা যোগসাজশে জড়িত থাকেন বলে বলে যায়, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদণ্ড-সহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দিল্লি জুড়ে বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউসগুলি পরিদর্শন করা হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কারোর কোন অনুমোদন দরকার নেই বলেও জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে দিল্লিতে বেশ কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।