• আসন সংখ্যার পুনর্বিন্যাস হবেই, সাফ জানালেন শমীক, নিশানা মমতাকেও
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: পাঁচ রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এ বার ফের আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) বিল পাস করানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বিজেপি। যত দ্রুত সম্ভব সংসদে এই বিল পাস করিয়ে সব রাজ্যের লোকসভার আসন সংখ্যার পুনর্বিন্যাস করা অত্যন্ত জরুরি বলে শুক্রবার দিল্লিতে দাবি করেছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য৷ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘দেশের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে৷ এক–একটি আসনে ১৮-২০ লাখ ভোটার৷ যাঁরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের জনতার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তো থাকতে হবে! সকলের সঙ্গে কথাবার্তা হতে হবে৷ জনপ্রতিনিধিকে সব জায়গায় পৌঁছতে হবে৷ তাই ১৪০ কোটি নাগরিকের দেশে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন যথেষ্ট নয়৷ এটা বাড়াতেই হবে৷ ক্ষমতা এবং গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণের জন্য আসন বৃদ্ধি প্রয়োজন। আমরা এটা করবোই৷ আমরা বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিতে সংসদে এই বিল পাস হয়ে যাবে৷’

    বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন একটি জটিল বিল৷ যদি শুধু লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে ৮৫০ করতে হয়, তা হলে বিল পাসের জন্য লোকসভায় সরকারের পক্ষে ৫০ শতাংশের বেশি সমর্থন থাকলেই হবে৷ কিন্তু যদি ডিলিমিটেশন বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিল যোগ করা হয়, তখন সংবিধান সংশোধন করতে হবে৷ সে ক্ষেত্রে এই বিল দু’টি একত্রে পাস করাতে লোকসভায় দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে সরকারের, যা এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। যে কারণে বাজেট অধিবেশনের বর্ধিত পর্বে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়েছিল শাসক শিবির৷

    কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কংগ্রেস এবং ডিএমকে–র মধ্যে টানাপড়েনের জেরে আসন ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল এক যোগে পাস করানোর চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ডিএমকে–র ২২ জন সাংসদের ইস্যুভিত্তিক সমর্থন পেতে পারে সরকার৷ আবার সূত্রের খবর, বাংলায় বিধানসভার মতো যদি তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ফাটল ধরে, তা হলে জোড়াফুলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরাও সমর্থন করতে পারেন বলে মনে করছে বিজেপি।

    সংসদীয় সূত্রের দাবি, এই অঙ্ক মাথায় রেখেই সরকারের তরফে ডিএমকে, তৃণমূল–সহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে শমীকের অবস্থান অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ৷

    এর পাশাপাশি বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকেও নিশানা করেছেন শমীক৷ তাঁর দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন, তা পশ্চিমবঙ্গের তথা দেশের কোনও নাগরিক সমর্থন করেন না৷ দু’টি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ করছেন উনি৷ ওঁর মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশে থাকা হিন্দুরা নিজেদের অসুরক্ষিত মনে করছেন৷ এত বর্ষীয়ান একজন রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে এ হেন মন্তব্য করেন, তা আমি ভেবে পাই না৷ এ জন্যই পশ্চিমবঙ্গের জনতা ওঁর দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন৷ এ বার জনতা রাজনীতি থেকেও এঁদের উপড়ে ফেলে দেবে৷’

  • Link to this news (এই সময়)