• শুরুতেই সফর শেষ নতুন বাইকে, অঙ্গদানে নতুন জীবন তিন জনের
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়: বহু দিনের সঞ্চয়ে কেনা নতুন মোটরবাইক। শোরুম থেকে বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দে ঝকমকে ছিল চোখেমুখ। কিন্তু সেই বাইকের প্রথম রাতের সফরই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। পথ দুর্ঘটনার পরে গুরুতর আহত হন সুকুমার সরকার (২০)। শত চিকিৎসাতেও অচেতন তরুণের জ্ঞান আর ফেরেনি। বুধবার তাঁকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করা হয়। শোক ছাপিয়ে কর্তব্যবোধ ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরিজন ঠিক করেন, মরণোত্তর অঙ্গদান করা হবে সুকুমারের। আর সেই সূত্রেই বৃহস্পতিবার নতুন জীবন পেলেন তিন মুমূর্ষু। আর চোখের আলো ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলো আরও দু’জনের।

    নিউ টাউনের হাতিয়ারার বাসিন্দা সুকুমার গত রবিবার (৩১ মে) রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ টাউনের ইকো পার্কের কাছে একটি ছোট ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাঁর বাইকের। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ইএম বাইপাসের অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিউরোসার্জেন দেবর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে তাঁকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করা হয়।

    শোকের মধ্যেও অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন সুকুমারের বাবা মানবেন্দ্র সরকার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় রোটো (রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)–র মাধ্যমে সুকুমারের লিভার অ্যাপোলোতে চিকিৎসাধীন এক সিরোসিস রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্যে বরাদ্দ হয়। একটি কিডনি যায় এসএসকেএম হাসপাতালে এবং অন্য কিডনিটি দেওয়া হয় আরএন টেগোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর জন্যে।

    সুকুমারের কর্নিয়াও সংগ্রহ করেছে দিশা আই ব্যাঙ্ক। পরে তা দৃষ্টিহীন দু’জনের চোখে প্রতিস্থাপিত হবে। সূত্রের খবর, সুকুমারের হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসও প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত ছিল। তবে রাজ্যে উপযুক্ত গ্রহীতা না মেলায় সেগুলি অন্য রাজ্যে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় নোটো (ন্যাশনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)–র মাধ্যমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাড়া মেলেনি কোনও রাজ্য থেকেই।

    মাত্র ছ’মাস আগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছিলেন সুকুমার। দূরশিক্ষায় স্নাতক স্তরের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারের লোকজন ভেঙে পড়লেও তাঁদের সান্ত্বনা, সুকুমারের অকালমৃত্যু অন্য কয়েকটি পরিবারে জীবনের আলো ফিরিয়ে দিয়েছে। চলতি বছরে রাজ্যে এটি তৃতীয় মরণোত্তর অঙ্গদানের নজির। গত বছর জুন পর্যন্ত যেখানে এমন অঙ্গদানের সংখ্যা ছিল আটটি, সেখানে এ বছরের কম পরিসংখ্যান ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্তাদের।

  • Link to this news (এই সময়)