• পুরপ্রধানের অফিসে তাণ্ডব, নগ্ন করে মার নেতা-সঙ্গীকে
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, নিমতা ও উস্তি: পুরপ্রধানের ব্যবসায়িক অফিস থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার দফায় দফায় ভাঙচুর, গণ্ডগোল, মারধরের ঘটনা ঘটল উত্তর দমদমে। পুরপ্রধানের ব্যবসায়িক অফিসে যথেচ্ছ ভাঙচুরের পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছেন এক কাউন্সিলার, তাঁর স্ত্রী এবং পুরপ্রধান ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল কর্মী। তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় নিমতা মাঝেরহাটি এলাকায়। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। এক বিজেপি কর্মীকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

    অন্যদিকে, সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাচারের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়ির সামনে ত্রাণসামগ্রী বোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী গাড়িতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়াসউদ্দিনের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। পুলিশ গাড়িটি আটক করে। সিজ়ার লিস্টে সই করেন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। উদ্ধার হওয়া ত্রাণসামগ্রী বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। গিয়াসউদ্দিন বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।'

    উত্তর দমদমের পুরপ্রধান বিধান বিশ্বাসের 'আল্পনা ফিশারি' নামে পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরহাটি এলাকায় একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অভিযোগ, সেই অফিসে প্রচুর ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি মজুত করা ছিল। পুরসভা সূত্রে খবর, সম্প্রতি পুরপ্রধান ওই অফিস থেকে ওই সব ত্রাণসামগ্রী পুরসভায় স্থানান্তরের জন্য এগজ়িকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন৷ সেই মতো এ দিন পুরসভার অর্ডারে তা সরানোর কাজ শুরু হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের কাছে খবর যায় ওই সব ত্রাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    বিজেপির লোকজন পুরপ্রধানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একদল জোর করে তিনতলা ওই অফিসে ঢোকে। অভিযোগ, অফিসে ত্রাণসামগ্রী ছাড়াও দামি ব্র্যান্ডের ওয়াইনের বোতল, গ্লাস, কন্ডোম–সহ নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়। অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নিমতা থানার পুলিশ বাহিনী পৌঁছয়। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে বিক্ষোভকারীদের।

    এর পরেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে পাশেই মাঝেরহাটি এলাকায় পুরপ্রধানের ঘনিষ্ঠ বাপ্পা সাহা এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শঙ্কর দাসের বাড়িতে। জমি দখল, অত্যাচার–সহ একাধিক অভিযোগে তাঁদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বিজেপি কর্মীরা জোর করে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, টিভি–সহ অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়৷ বাপ্পা সাহাকে ঘর থেকে বের করে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রীকে সাদা থান পরিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়।

    কাউন্সিলার শঙ্কর দাসের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁকে ঘরের ভিতর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাথায়, চোখে আঘাত পান ওই কাউন্সিলার। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর পরিবারের মহিলা সদস্যরাও আক্রান্ত হন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, 'ওই সব সামগ্রী প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দেওয়া। পার্টি থেকে দেওয়া সামগ্রী দলীয় কার্যালয়ে জায়গা হয়নি বলে ওই অফিসে ছিল। পরিকল্পনা করে বিজেপি এই হামলা চালিয়েছে।' বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা কমিটির সদস্য নিতাইকুমার শীল বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই। সবটাই জনরোষ।'

  • Link to this news (এই সময়)