দিব্যেন্দু সরকার, তারকেশ্বর
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মতো এ বার হুগলির শৈবতীর্থ তারকেশ্বরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয়ের মিলিত উদ্যোগেই এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বর আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্ভবত, ওই দিনই তারকেশ্বর মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে।
হুগলির ধনেখালিতে বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছিলেন, বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে তারকেশ্বরকে সাজানো হবে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের একাংশের দাবি, খুব শিগগিরই সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
কয়েকদিন আগেই তারকেশ্বরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারকেশ্বর মন্দির চত্বরকে নবরূপে সাজানো হবে। তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন দুধপুকুরের দেওয়ালে যে রং করা হয়েছিল, সেটাকেও বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারকেশ্বর মন্দিরের মোহন্ত মহারাজ এই সময়'কে বলেন, মন্দিরের উন্নয়নে সরকার যা করবে, আমরা তাতে সহযোগিতা করব।'
মন্দিরের পুরোহিত মণ্ডলীর এক কর্তা প্রদ্যুৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তারকেশ্বরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত ভক্ত আসেন। শ্রাবণী ও চৈত্র মেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। কাশী বিশ্বনাথের মতো তারকেশ্বরকে সাজাতে পারলে সবারই উপকার হবে। কয়েকদিন বাদেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন। আশা করছি, উনি বড় কিছু ঘোষণা করবেন।' মন্দিরের আর এক পুরোহিত বলরাম চক্রবর্তী বলেন, 'আগামী দিনে তারকেশ্বরের আকর্ষণ আরও বাড়বে। তার জন্য হয়তো অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হতে পারে। আমরাও চাই, তারকেশ্বরকে সুন্দর করে গড়ে তোলা হোক।'
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুভাস মজুমদার বলেন, নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, তারকেশ্বরকে গোটা দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, এখানেও সেরকমটা হওয়া দরকার। তাতে দর্শনার্থীদের যেমন সুবিধে হবে, তেমনি এলাকার আর্থিক মানোন্নয়ন ঘটবে। এই কাজে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে রাজি আছি।'
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, আগামী দিনে তারকেশ্বরের খোলনলচে পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হবে। এখন ভক্তরা যে পথ দিয়ে তারকেশ্বর মন্দিরে বাবার মাথায় জল ঢালতে যান, সেটি খুবই সঙ্কীর্ণ। রাস্তার দু'পাশে অগণিত দোকান রয়েছে। সেজন্য ভক্তদের যাতায়াতে খুবই অসুবিধে হয়। মন্দিরে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তাটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। তার জন্য দরকার হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করা হবে। কিছু দোকান সরাতে হতে পারে।