• হিমঘরে চলে যাওয়া মেট্রোর পিঙ্ক লাইনেও আশার আলো
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়: পিঙ্ক লাইনেও এ বার সিলভার লাইনিং! অরেঞ্জ লাইনের জট কাটার পরেই আশা জাগল মেট্রোর পিঙ্ক লাইনে।

    রামচন্দ্রের বনবাস কেটেছিল ১৪ বছরে। কিন্তু কলকাতা মেট্রোর পিঙ্ক লাইনের অভিশপ্ত দশা কাটেনি ১৬ বছরেও। অনুমোদন পেয়েছিল সেই ২০১০–এ, অথচ কাজ একটুও এগোয়নি। এমন প্রকল্প বাতিল হওয়াই দস্তুর। কিন্তু হয়তো কোনও অসম্ভবের আশাতেই এই প্রকল্প বাতিল করেনি রেল বোর্ড। প্রতি বাজেটে ন্যূনতম অর্থ বরাদ্দ করে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বরাহনগর–ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পকে। অসম্ভব কিছুর উপরে ভরসার সুফল মিলল শেষ পর্যন্ত। অরেঞ্জ লাইনের জট কাটার পরে এ বার হয়তো দিনের আলো দেখতে চলেছে পিঙ্ক লাইনও।

    বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর — ২০১০–এ ১২.৫ কিমি দীর্ঘ এলিভেটেড মেট্রো পথ অনুমোদিত হওয়ার পরে ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) জমা পড়া ছাড়া ওই রুটের কাজ আর এগোয়নি। হিমঘরে চলে যাওয়া সেই মেট্রো প্রকল্পেরই এ বার পুনরুজ্জীবনের আশা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে দু’দফায় মাত্র ১১৫ ঘণ্টায় চিংড়িঘাটায় মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের জট কাটতে দেখেছেন রাজ্যবাসী। আর তার পরেই কলকাতা মেট্রোর পিঙ্ক লাইন নিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেললেন রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)–এর আধিকারিকরা।

    সত্যিই সমস্যা ছিল? নাকি পুরোটাই সদিচ্ছার অভাব এবং অসহযোগিতা? এই প্রশ্নও জোরদার হতে শুরু করেছে। ২০১০–এ যখন এই পিঙ্ক লাইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেই সময়ে রেলমন্ত্রী ছিলেন রাজ্যের সদ্য–প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১–তে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা পায় তৃণমূল। তার কিছুদিন পরে হঠাৎই কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা ‘আবিষ্কার’ করেন, বিটি রোডের নীচে একটি ৬০ ইঞ্চি এবং একটি ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন রয়েছে। পলতা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৪০ মিলিয়ন গ্যালন পানীয় জল টালা জলাধারে আসে ওই দুই পাইপ দিয়েই। মেট্রোর কাজে ওই দু’টি পাইপ কোনও ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তর কলকাতার কয়েক লক্ষ মানুষ পানীয় জল পাবেন না — এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করে পুরসভা। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি ৬৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো এবং পুরোনো পাইপগুলি সরানো নিয়ে মউ স্বাক্ষর হয় রেল ও পুরসভার মধ্যে। ২০১২–তে নতুন পাইপটি বসানোও হয়।

    কিন্তু তার পরেই তৃণমূল দিল্লির ইউপিএ সরকারের সঙ্গ ত্যাগ করে। রেলের আধিকারিকদের বড় অংশের অভিযোগ, ওই সময় থেকেই রাজ্যের তরফে অসহযোগিতা শুরু হয়। এর দু’বছর পরে ২০১৪–য় নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে কলকাতা পুরসভা রেলকে জানিয়ে দেয়, বিটি রোডের নীচে পাইপলাইন সরানো সম্ভব নয়। ২০৭০ কোটি টাকার প্রকল্পের আর দিনের আলো দেখার কোনও সম্ভাবনাই থাকেনি তার পরে। কিন্তু আশা ছাড়েনি রেল।

    গত মাসে রাজ্যে পালাবদলের পরে রেলবোর্ড নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করে পিঙ্ক লাইন নিয়ে। আরভিএনএল–এর প্রতিনিধিদল ফের কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বিটি রোডের নীচে বিভিন্ন জায়গা দিয়ে যে পাঁচটি পানীয় জলের লাইন গিয়েছে — তার দু’টিকে অন্তত সরিয়ে ফেলে সেখানে মেট্রোর পিলার বসানোর কাজ করতে হবে। কী ভাবে সেই কাজ করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করতেই আলোচনা হয় দু’পক্ষের। যেহেতু ৬৪ ইঞ্চির পাইপলাইনটি আগেই বসানো হয়ে গিয়েছে, তাই কাজ কিছুটা এগিয়েই রয়েছে বলে মনে করছেন ইঞ্জিনিয়াররা।

    সব কিছু ইতিবাচক ভাবে চললে এ বার হয়তো শুরু হবে পিঙ্ক লাইনের কাজ। যদিও কতদিনে কাজ শেষ হয়ে মেট্রো চলবে — তার কোনও ডেডলাইন আপাতত নেই।

  • Link to this news (এই সময়)