• শওকত এনআইএ-এর জালে উঠতেই মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
    আজকাল | ০৬ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার রাতে সোনারপুরের কামালগাজি এলাকা থেকে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতাকে।

    আর শওকতের গ্রেপ্তারির পর একপ্রকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তবে তাঁর এই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দিলীপ বোঝাতে চাইলেন, গ্রেপ্তারির ফলে আমজনতার ক্ষেভের হাত থেকে বাঁচলেন শওকত।

    শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা বলেন, ‘সবে শুরু, শুধু গুনতে থাকুন। ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। দেড় হাজার অপরাধীকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা উচিৎ। এদের ওপর মানুষের অপরিসীম ক্ষোভ আছে। ওদের আরও বেশি করে গ্রেপ্তার করা দরকার। নইলে একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। রাস্তাঘাটে যা হচ্ছে, যেভাবে ঘিরে ধরছে মারধর করছে। ওদের জীবনের স্বার্থে ওদের গ্রেপ্তার করা উচিত। কোর্টে মামলা চলুক।’

    প্রসঙ্গত, শওকত মোল্লাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শওকতের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই তিনটি মোবাইল ফোন থেকে তথ্য উদ্ধারের জন্য ফরেন্সিকে পাঠানো হচ্ছে।

    বিস্ফোরণের ঘটনার পরে তার সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ করেছিলেন? সেই সমস্ত তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এনআইএ। এমনকী জানা গিয়েছে, শওকত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির তৃণমূল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন করার চেষ্টা করছিলেন।

    সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় শওকত মোল্লাকে। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার ভোরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালি এবং জীবনতলা এলাকায় শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ-র একটি বিশেষ দল।

    তবে তদন্তকারীরা বাড়িতে পৌঁছে দেখেন মূল ফটকে তালা ঝুলছে এবং শওকত মোল্লা বেপাত্তা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিধায়ককে না পেয়ে তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা।

    পরে ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর একটি রেস্তোরাঁ সহ মৌখালি ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। গতকাল দিনভর প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি সহ মোট ৮টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    কিন্তু দিনভর কোথাও শওকতের খোঁজ না মেলায় রাতে তাঁকে ‘ফেরার’ বলে ঘোষণা করেছিল এনআইএ। অবশেষে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কামালগাজি থেকে তাঁকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়।

    প্রসঙ্গত, ভোটের ঠিক আগের দিনই এই মামলায় তৃণমূলের আরেক প্রভাবশালী নেতা ওহিদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।

    তখন থেকেই শওকত মোল্লাকে নিয়েও জল্পনা দানা বাঁধছিল। অবশেষে, শওকত মোল্লা আটক হওয়ার পর ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
  • Link to this news (আজকাল)