আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এবং সুরুচি সংঘে বিশেষ গোপন ঘরের খোঁজ মিলেছে। কলেজের গোপন ঘরে সুসজ্জিত খাট, মদের বোতল, কন্ডোমের প্যাকেটের মতো জিনিস। এই বিষয়ে প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এর পাশাপাশি সতর্ক করে দিলেন পুলিশকেও।
শনিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ। সেখানে সাংবাদিকরা তাঁকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এরই মধ্যে একই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে এই যে তৃণমূলের নানা ‘ফূর্তি ঘর’-এর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে এই নিয়ে কী বলবেন? উত্তরে দিলীপ বলেন, “হাসপাতালে শাড়ির দোকান তৈরি হয়েছিল। স্পা তৈরি হয়েছিল। খাও দাও ফুর্তি করো। ইউনিয়ন রুমের ভিতর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, মদের বোতল আরও কত কি! পুলিশ জানে কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় হাত লাগাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ সেই সব টাকা উদ্ধার করছে। পুলিশের কেন এত প্রভুভক্তি? প্রভুর বিদায় হয়ে গিছে। এখনও অনেক পুলিশের ভক্তি যাচ্ছে না।”
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে শহরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উইপোকায় খাওয়া দুই স্যুটকেস ভর্তি টাকা পাওয়া যায়। ওই টাকা উদ্ধারের পরেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এখানেই চমকের শেষ নয়, এর কিছু পরেই ক্যাম্পাস চত্বরের ভিতরেই সন্ধান মেলে দু’টি বিলাসবহুল এসি বেডরুম, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মদের বোতল, কনডোমের প্যাকেট এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের।
টাকা উদ্ধারের পর পুরো ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালাতেই খোঁজ মেলে এই ঘরগুলির। কলেজের ছাদে তৈরি আধুনিক ঘর দু’টিকে তৎকালীন তৃণমূল জমানায় ‘টেরেস ফেসিলিটি’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই ঘরগুলি মূলত ব্যবহার করতেন তৎকালীন শাসকদল অনুমোদিত গভর্নিং বডির প্রভাবশালী সদস্য দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি এলাকায় ‘কানকাটা দেবু’ নামে পরিচিত) এবং তাঁর ছেলে শিবাশীষ। কলেজের কর্মচারীদের দিয়ে শরীর মালিশ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবাশীষ।
শুক্রবার স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই আলিপুরের অন্যতম পরিচিত ক্লাব সুরুচি সংঘে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আধার কার্ড, ভোটার তালিকা এবং আরও অনেক নথি। সেই ক্লাবেও একটি বিশেষ ঘরের খোঁজ মেলে। সেখানেও সব রকম সুযোগ সুবিধা ছিল।