তৃণমূলের পার্টি অফিসেই বালতি, মশারি... এলাকায় চলত কাকা-ভাইপো রাজ! বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রীরামপুরে
News18 বাংলা | ০৬ জুন ২০২৬
একের পর এক পর্দা ফাঁস৷ এবার হুগলির শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশে তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার বস্তা ভর্তি সাদা থান, বালতি, মশারি সরকারি সামগ্রী। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিসের দোতলার ঘরেই নাকি রয়েছে খাট বিছানা। বিজেপির দাবি, নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় হলে কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে সাদা থান পাঠান হত।
শ্রীরামপুর রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমলা কালীতলা এলাকায় রয়েছে তৃণমূলের অঞ্চল অফিস। রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান মোহন মণ্ডল এই পার্টি অফিসের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। সূত্রের খবর, সেই অফিসে মজুত করে রাখা ছিল সরকারি বালতি, মশারি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী।
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, রাজ্যধরপুরে চলত কাকা ভাইপো রাজ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও আগে ভয়ে কেউ বলতে পারতো না। এখন সরকার বদল হয়েছে তাই মানুষ অভিযোগ করতে সাহস পেয়েছে।
যদিও তৃণমূল নেতা মোহন মণ্ডলের দাবী, ‘‘নির্বাচনের আগে এই বালতি গুলো নিয়ে আসা হয়েছিল সাধারণ মানুষকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভোটের বিধিনিষেধ থাকার কারণে সেগুলো মানুষের মধ্যে বিলি করা হয়নি। তাই পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল এটা ভুল হয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর কাটমানি নেওয়া হল, সরকারি টাকা সম্পদ অপচয়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে৷ কোচবিহারের তৃণমূল নেত শহিদুল মিঞার বিরুদ্ধেও প্রায় ৮ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে৷ সরকারি আবাস যোজনার প্রাপ্য টাকা থেকে ওই তৃণমূল নেতা কাটমানি নিতেন বলে অভিযোগ৷ কারও থেকে ৫ হাজার, কারও থেকে ১০ হাজার আবার কারও থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে৷
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ওই তৃণমূল নেতার কাছ থেকে কাটমানি ফেরত চাইতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা৷ গত ২৫ মে ওই তৃণমূল নেতার বাড়ির বাইরেও বিক্ষোভ দেখান এলাকার মহিলারা৷ তখন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চান অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা৷ এ দিন ফের বিক্ষোভকারীরা তাঁর বাড়ির বাইরে জড়ো হন৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাথাভাঙা থানার পুলিশ৷ ঘরের ভিতরে ঢুকে পুলিশকর্মীরা দেখেন, জনরোষের ভয়ে খাটের নীচে লুকিয়ে রয়েছেন তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা৷