তাপ ও দূষণের মাত্র যুগপৎ মাপতে সূচক উদ্ভাবন খড়্গপুর আইআইটির
বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: ভয়ানক বায়ুদূষণে কাবু রাজধানী দিল্লি। দূষণে জর্জরিত খড়্গপুর, হলদিয়া, কলকাতা আসানসোলের মতো শিল্পনগরীগুলিও। আগামীদিনে এই শহরগুলির অবস্থাও যাতে দিল্লির মতো না হয়, তা নিয়ে সতর্ক বিজ্ঞানীরা। তার উপর দুয়ারে কড়া নাড়ছে সুপার এল নিনো। স্বাভাবিকভাবেই দূষণ ও গরম রোধে নানা উপায়ের পথ খুঁজতে চলছে নিরন্তর গবেষণা। আর উপায় বের করার প্রথম শর্তই হল, বিপদকে আগাম আঁচ করা। সেটাই করে দেখালেন খড়গপুর আইআইsটির সেন্টার ফর ওসান, রিভার, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্সের (কোরাল) একদল গবেষক ও বিজ্ঞানী। উদ্ভাবন করেছেন দূষণ ও তাপমাত্রা পরিমাপের নিখুঁত ইনডেক্স বা সূচক। যা জলবায়ু ও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন শহরের তাপ ও দূষণকে আলাদাভাবে মাপা যেত। এবার একটিই মাত্র সূচকের সাহায্যে এদের সম্মিলিত প্রভাব বা স্বাস্থ্য-ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন খড়্গপুর আইআইটির বিজ্ঞানীরা।
‘কোরাল’-এর অধ্যাপক জয়নরায়ণ কুট্টিপ্পুরাথ এবং গবেষক ভি কে প্যাটেলের নেতৃত্বে সম্প্রতি এই যুগান্তকারী গবেষণাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের গবেষণার নাম ছিল, ‘সুরক্ষিত নগর পরিকল্পনার জন্য তাপ ও দূষণ বিষয়ক একটি সমন্বিত সূচক (দিল্লির নিরিখে)।’ এই গবেষণা ‘কেস স্টাডিজ ইন কেমিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ শীর্ষক একটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক জয়নরায়ণ কুট্টিপ্পুরাথ বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহরে তাপপ্রবাহ এবং দূষণের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই দুই সমস্যাকে আলাদাভাবে মাপা হয়। কিন্তু, বাস্তবে এদের মিলিত প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। এই প্রথমবার আরবান হিট আইল্যান্ড বা শহুরে তাপ ও দূষণের প্রভাব বা স্বাস্থ্য-ঝুঁকিকে একসঙ্গে জুড়ে এই নতুন সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। এই গবেষণায় উদাহরণ হিসেবে রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, সমীক্ষায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, মধ্য, পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লির মত অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে এই সূচকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, ওইসব এলাকায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। অন্যদিকে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির মত তুলনামূলকভাবে সবুজ এবং কম জনবহুল এলাকায় এর মাত্রা অনেকটাই কম। সুরক্ষিত নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটি একটি ভাল দিক।