• বঞ্চিত দুঃস্থ পরিবারকে বাড়ি দেবে নয়া সরকার
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুঃস্থ পরিবারগুলিকে নতুন করে বাড়ি দেবে সরকার। যে পরিবারগুলি বাড়ি পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত থেকেছে তাদের নাম আবাসের তালিকা ভুক্ত করা হবে। সরকাবি কর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করবেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলাতেই অনেকে এখনো মাটির বাড়িতে বসবাস করা সত্ত্বেও তারা সরকারি সুযোগ পায়নি। অথচ যাদের পাকাবাড়ি রয়েছে তাদের আবাস যোজনার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অনেকে গোরুর গোয়ালকে বসতবাড়ি দেখিয়ে আবাসের টাকা পেয়েছে। অথচ যোগ্যরা তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। নতুন সরকার ওই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে চাইছে। 

    প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিটি জেলাতেই কয়েক দিনের মধ্যেই সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কথা শুনে বাড়ি দেওয়া হবে না। যাদের মাথার উপর পাকাপোক্ত ছাদ নেই তাদেরকেই বাড়ি দেওয়া হবে। তৃণমূল জমানায় প্রকল্পে অনিয়ম হওয়ার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেওয়া  বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন রাজ্য সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করে। কিন্তু, এক্ষেত্রেও অনেক জেলাতেই অনিয়ম হয়েছে। তৃণমূলের প্রভাবশালীরা আবাসের চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। যেসব পরিবারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না তাদের অনেকেই বাড়ি পায়নি। 

    আরেক আধিকারিক বলেন, প্রয়োজনে একাধিকবার সমীক্ষা করা হবে। কিন্তু, যারা অযোগ্য তাদের বাড়ি দেওয়া হবে না। অযোগ্য বলতে যাঁদের পাকাবাড়ি রয়েছে, যারা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধশালী তাদেরকে প্রকল্পের বাইরে রাখা হবে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কোথায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে সেটাও আধিকারিকরা খতিয়ে দেখবেন। টাকা পাওয়ার পরও অনেকেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। তাঁদেরও চিহ্নিত করা হবে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নতুনভাবে তালিকা তৈরির কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো নেতার দ্বারস্থ হওয়ার দরকার হবে না। আধিকারিক বা সরকারি কর্মীরাই এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে আবাস যোজনার তালিকা তৈরি করবেন। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প অবলুপ্ত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের নামই এরাজ্যে চালু থাকবে। সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত পরিবারের মাথার উপর পাকা ছাদ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বিজেপি’র সংকল্পপত্রেও বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি মতো কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে। মাটির বাড়ি ছবিও তুলে রাখবেন সরকারি কর্মীরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)