• কুমোরটুলিতে মাটির সংকট ৩০ দিনে পড়ল, বাতিল হচ্ছে বায়না, দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইলেন মৃৎশিল্পীরা
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুমোরটুলিজুড়ে প্রতিমা তৈরির মাটির সংকট চলছে। শুক্রবার তা ৩০ দিনে গিয়ে পড়ল। এই সংকটের জেরে বাতিল হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিমার একাধিক বায়না। শুক্রবার কুমোরটুলি সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে। মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো বায়না নেওয়াটা সম্ভব নয়। তাতে সঠিক সময়ে প্রতিমা উদোক্তাদের হাতে তুলে দিতে না পারলে তাঁদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবে। তাই মাটির সমস্যা না মেটা পর্যন্ত আমরা প্রতিমার বায়না নিতে ভয় পাচ্ছি।’ শুক্রবার কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘এদিন প্রতিমা তৈরির মাটির সমস্যার বিষয়টি জানিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ই‑মেল করা হয়। আমরা জেলা প্রশাসনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। পরিস্থিতি অনু্যায়ী পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ডায়মন্ডহারবার থানা, ভূমি ও ভুমি সংস্কার দপ্তরে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছি। কীভাবে এই সমস্যার জট খোলা যায়, তা নিয়েও তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর ফের সমস্যার সমাধানে শুক্রবার জেলা প্রশাসনের কাছে ই‑মেল করা হয়।’ মৃৎশিল্পীদের একাংশ এদিন বলেন, ‘শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনাই নয়, হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকেও মাটি আসা বন্ধ হওয়ার ফলেই এই সংকট ক্রমশ বাড়ছে। একটা সময় উলুবেড়িয়া থেকে জলপথে নৌকা করে প্রতিমা তৈরির মাটি প্রচুর পরিমাণে আসত কুমোরটুলি ঘাটে। সেখান থেকে মুটের মাধ্যমে সেই মাটি বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে পৌঁছে দেওয়া হত। কিন্তু এখন উলুবেড়িয়া থেকে মাটি আসাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর তার সঙ্গে ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, বিষ্ণুপুর, আমতলা, ক্যানিং প্রভৃতি এলাকা থেকেও মাটি আসা বন্ধ হওয়ার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল আকার নিচ্ছে।’

    পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় রীতিমতো চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকজনরা। তাঁদের কথায়, ‘আমরা চাই, দ্রুত সমস্যার সমাধান। না হলে আমাদের সংসার চালানো দায় হয়ে উঠবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। দেখতে দেখতে একমাস গড়াতে চলল। কিন্তু এখনও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হল না। সেটাই আমাদের কাছে একটা বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।’ মৃৎশিল্পীদের একাংশ বলেন, ‘সমস্যা মিটিয়ে কুমোরটুলি আগের ছন্দে ফিরুক, এটাই কাম্য।’
  • Link to this news (বর্তমান)