• ভবনটা তো তৃণমূলকে ‘দান’ করেছি, খোঁচা জাভেদ খানের
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তপসিয়ার আদি তৃণমূল ভবনটি প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের জমির উপর তৈরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাভেদ খান যখন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে শামিল হয়েছেন, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল ভবনের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই প্রশ্নে শুক্রবার জাভেদ খান বলেন, ‘তপসিয়াতে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। তৃণমূল ভবনটি যেখানে তৈরি, সেটিও আমার সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আমি ওই জমি দান করে দিয়েছি। দান করা কিছু ফেরত নিই না। আমি ওই স্কুলে পড়িনি যে দান করা জিনিস আবার ফেরত নিয়ে নেব।’

    প্রসঙ্গত, তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর দলের রাজ্য সদর দপ্তর তৈরি হয়েছিল তপসিয়ায়। সেটিই আদি তৃণমূল ভবন হিসাবে পরিচিত। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পর ওই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেন, আদি তৃণমূল ভবনের জায়গাটি ছোটো। সেখানে ঘরের সংখ্যাও কম। কর্মী-সমর্থকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বড়ো বিল্ডিং তৈরি আবশ্যিক। সেই মতো পুরানো বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়। সেই থেকে বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে তৃণমূল ভবনের কাজকর্ম চালানো হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর ওই বিল্ডিংয়ের মালিক তথা একটি ডেকোরেটিং সংস্থার কর্ণধার মন্টু সাহা ওই বিল্ডিং অবিলম্বে খালি করে দিতে বলেন। এই অবস্থায় আদি তৃণমূল ভবনের সংস্কারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সেরে ফেলতে তৎপর হয়েছে তৃণমূল। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আদি ভবনে ফিরে যেতে চেয়েছেন বলে খবর। এই অবকাশে প্রশ্ন উঠেছিল, জাভেদ খানের জমিতে থাকা ওই ভবন কি আদৌ আর তৃণমূলের হাতে থাকবে? নাকি সেখানে বিদ্রোহী শিবিরের পার্টি অফিস তৈরি হবে? সেই প্রশ্নে জাভেদ খোলাখুলি বলে দিয়েছেন, ‘আমি ওটা ফেরত চাইব না। কারণ, ওটা দান করেছি। এখন তৃণমূল নেতা-নেত্রীরাই ঠিক করবেন, ওখানে কী হবে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে, জাভেদ খানের বিপুল সম্পত্তির জন্যই কি তিনি বিজেপি শিবিরে যোগাযোগ করছেন বা তৃণমূলের  বিরোধী শিবিরে যোগ দিলেন? এ প্রশ্নে জাভেদ বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি আছে। আর সেই সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য অন্য কোথাও দরবার করব— ওই রাজনীতি আমি করি না।’
  • Link to this news (বর্তমান)