সই কাণ্ডে বিপাকে অভিষেক, রক্ষাকবচ মামলায় দ্রুত শুনানির আরজি খারিজ
বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় স্বাক্ষর কাণ্ডে স্বস্তির বদলে বরং অস্বস্তিতে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির নোটিস চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করেছিলেন মামলা। তার দ্রুত শুনানির আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিলেন বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস। মামলার ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ীই শুনানি হবে ১০ জুন। জানিয়ে দিল আদালত। এদিকে, ৮ তারিখ তাঁকে হাজিরার জন্য ডেকেছে সিআইডি।
গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর তৃণমূল বিধায়কদের শপথের পর বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। দলের তরফে উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয়। মিলিয়ে দেখা হয় কজন গরহাজির! পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি চিঠি জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। ওই চিঠির শেষে দলের তরফে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল বলে জানা যায়।
আর ওই চিঠির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দলেই অভিযোগ জানান। অভিযোগ, ওই চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর ‘জাল’ করা হয়েছে! আর তারপরই ঘটনার তদন্তভার যায় সিআইডির কাছে। তদন্তে নেমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিআইডি। কিন্তু ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। চিঠি পাঠিয়ে ১৫ দিন সময়ও চান তৎকালীন তৃণমূল সেনাপতি। কিন্তু সিআইডির তরফে একসপ্তাহ সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
এরপরই গত বুধবার সিআইডি নোটিস চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক। রক্ষাকবচ চেয়ে দায়ের করা ওই মামলায় দ্রুত শুনানির আরজিও ছিল তাঁর। কিন্তু দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস।