নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত থেকে পুলিশের জাল কেটে বেরিয়ে গেলেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পদত্যাগী বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত সুশান্তবাবুকে পাওয়া না গেলেও, বেলদা এলাকা থেকে তাঁর গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে। ধরা পড়েছে তাঁর চালক সুজিত কুমার চৌধুরি। শুক্রবার তাকে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছে আনন্দপুর থানা। কোথায় সুশান্তবাবু নেমে গিয়েছেন, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাঁর পিছু নিয়েছে এই খবর সুশান্তবাবুর কাছে পৌঁছে গেল কী করে, তা নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই সুশান্ত ঘোষ সহ তাঁর শাগরেদদের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ হয়। তাতে উল্লেখ ছিল হকারদের দোকান দেবেন বলে তিন কোটি টাকা তুলেছেন।তার ভিত্তিতে তোলাবাজির মামলা রুজু হয়। এরপরই তিনি এলাকা ছাড়েন। পুলিশ তাঁর বাড়ি সহ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পায়নি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পুরীতে আশ্রয় নিয়েছেন এই কাউন্সিলার। এখানে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। এমনকি বেনামে বাড়িও রয়েছে ওড়িশায়। এরপরই আনন্দপুর থানার অফিসাররা পুরীতে পৌঁছে যান গত ৪জুন। কলকাতা পুলিশ সেখানে আসছে, এই খবর কোনওভাবে পৌঁছে যায় সুশান্ত বাবুর কাছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়ি নিয়ে পুরী ছাড়েন। জানা যাচ্ছে সঙ্গে তাঁর পরিবারও ছিল। পুরীর যে হোটেলে তিনি ছিলেন, সেখানে যান তদন্তকারীরা। জানতে পারেন, অভিযুক্ত কাউন্সিলার বেরিয়ে গিয়েছেন। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁর গাড়ির নম্বর জোগাড় করেন অফিসাররা। গাড়ির নম্বর ওড়িশা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশকে জানানো হয়। বিভিন্ন টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরা দেখে পুলিশ জানতে পারে, গাড়িটি পশ্চিমবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ যে তাঁর পিছু নিয়েছে বুঝতে পারেন সুশান্তবাবু। মাঝরাস্তায় পরিবার নিয়ে নেমে যান তিনি। তাঁর গাড়িটি বেলদায় এলে আটক করে স্থানীয় থানা। কিন্তু কাউন্সিলারকে পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সুশান্তবাবু পুরী থেকে এই গাড়িতেই উঠেছিলেন। বেশকিছুটা আসার পর নিজের গাড়ি ছেড়ে রাস্তায় অপেক্ষারত অপর একটি গাড়িতে ওঠেন। সেটিতে করে তিনি চলে যান। ভুবনেশ্বর ও কটকের মাঝে তিনি নেমে গিয়েছেন বলে চালক দাবি করেছেন। এখান থেকে তদন্তকারীদের ধারনা, ওড়িশা ছেড়ে দক্ষিণ ভারতের দিকে যেতে পারেন অভিযুক্ত এই কাউন্সিলার।