এক বছরে রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের
বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নলবনে জলাশয়ের পাড়ে চারাগাছ রোপণ করেন তিনি। পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়েন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামী একবছর ব্যাপী ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির সূচনা করলেন। বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে গোটা রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দপ্তরের উদ্যোগে নলবনের অনুষ্ঠানটি হয়। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধাননগরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো জায়গায় এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।’ জানা গিয়েছে, সমস্ত সরকারি জায়গায় ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করার মধ্য দিয়ে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুধু গাছ বসানো নয়, সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের উপরও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস আমরা নতুন করে মূল্যায়ণ করব। পড়ুয়াদের মধ্যে পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সচেতনতা স্কুলস্তর থেকে তৈরি করার জন্য সিলেবাসের ব্যাপ্তি ঘটানো হবে।’ এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর কলকাতায় কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন রয়েছে এক তৃতীয়াংশে সবুজায়ন করতে হবে। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় তা দেখতে পাইনি। পরিবেশের সঙ্গে যে অন্যায় করেছি তার খেসারত বর্তমানকে দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দিতে হবে। এই বিষয়ে আরও যত্নবান হব।’ এরপর তিনি মুখ্যসচিবকে স্বচ্ছতা অ্যাপের ব্যাপ্তি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। আর বলেন, ‘কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, কোচবিহারের মদনমোহন জিউ, ঠাকুরনগরের ঠাকুরধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, কপিলমুণির আশ্রম সহ অসংখ্য মন্দিরের বাইরের পরিবেশ স্বচ্ছতার সঙ্গে সুন্দর করে সাজাতে হবে।’ এর পাশাপাশি টাইগার হিল, সমুদ্রতট সাজানোর কথাও তিনি বলেছেন। জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে অরণ্য ছেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশও করেছেন।
১৪ থেকে ২০ জুলাই অরণ্য সপ্তাহে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষায় ভারতের মধ্যে এক নম্বরে যাব। পরিবেশ দপ্তরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব, গরিব মানুষ কয়লা-কাঠে রান্না করে। নিজস্ব তহবিল থেকে ইলেকট্রিক চুল্লি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।’ গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় পরিবেশের তথ্য জানাতে ইলেকট্রিক বোর্ডের ব্যবস্থা করার কথাও এদিন জানান। পাশাপাশি জানান, স্কুলগুলিতে ইকো ক্লাবের সরকারি সহায়তা মিলবে। অন্যদিকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের উদ্যোগে সুভাষ নগরে সিআইএসএফ ক্যাম্পের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কলকাতা জিপিওতে পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ কভার প্রকাশ করা হয়।