• কাঠা পিছু ১০ লাখ, না হলে মিলবে না নির্মাণের অনুমতি, তোলাবাজির নতুন পথ, অভিযুক্ত স্বরূপ
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাঠা পিছু দিতে হবে দশ লাখ। বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির পুরো বরাতও দিতে হবে। তা না হলে কাজই এগবে না। চক্রের নাটের গুরু প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। তোলবাজির অভিযোগের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে আসছে পুলিশের কাছে। এরসঙ্গে টলিউডে তাঁকে তোলা না দিলে কাজের সুযোগই মিলত না বলে অভিযোগ। স্বরূপের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ জমা পড়েছে নিউ আলিপুর থানায়। আরও ৫০টি অভিযোগ আসছে বলে আদালতে এদিন দাবি করেছেন সরকারি আইনজীবী। শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে স্বরূপকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। এদিকে স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় একদল বাসিন্দা তাঁর ক্লাব সুরুচি সংঘে তুমুল ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ। অরূপ-স্বরূপকে চোর চোর স্লোগান দিয়ে ছিঁড়ে দেওয়া হয় পোস্টার- ব্যানার।

    স্টুডিও পাড়ার এক মেকআপ আর্টিস্ট স্বরূপের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো, শ্লীলতাহানি, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক বিষয়ে নিউ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর এক সহকর্মী অভিযোগ করেন, জোর করে তোলাবাজি করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে নিউ আলিপুর থানায় খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। এরপর আরও তিনটি একই ধরনের অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে উঠে আসে তোলাবাজিকে একটা ‘শিল্পের পর্যায়ে’ নিয়ে গিয়েছিলেন স্বরূপ। যে কোনও প্রযোজক, কলাকুশলী, ক্যামেরাম্যান কেউই তাঁর তোলাবাজির হাত থেকে বাদ যাননি। কলাকুশলীরা যে পেমেন্ট পেতেন, তাঁর একটা অংশ প্রাক্তন মন্ত্রীর গুণধর ভাইকে দিতে হত। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে গোটা টলউডে তিনিই ছিলেন শেষ কথা। 

    শুধু টলিউড নয়, তদন্তে জানা যাচ্ছে, নিউ আলিপুর, চারু মার্কেট এলাকায় কোনও  রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জমি কিনে বহুতল তৈরি করতে চাইলে, স্বরূপের সম্মতির আবশ্যিক ছিল। অভিযোগ, প্রতি কাঠা পিছু তাঁর দশ লাখ টাকা ‘তোলা’ ফিক্সড ছিল। এরপর বাড়ি তৈরির বরাত তাঁকেই দিতে হতো। ইঁট, বালি, সিমেন্ট, রড সমস্ত কিছুই তাঁর লোকজন সরবরাহ করত। এলাকার বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, সাধারণ নাগরিকদের কেউ বাড়ি তৈরি করলে এমনকি জানালা নতুন করে বানাতে চাইলে, স্বরূপকে টাকা দিতে হত। এই টাকা তুলত তাঁর সিন্ডিকেট। অভিযোগ, এলাকায় কোনো ব্যবসা করতে গেলেও, স্বরূপের বাহিনী গিয়ে প্রথমে এককালীন তোলা নিত। তারপর দিতে হত ধার্য মাসোহারা। এভাবেই তৃণমূল আমলে তোলাবাজি করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করেছেন স্বরূপ বিশ্বাস। এর সঙ্গে নিউ আলিপুর, চারু মার্কেট থানার ‘ডিফ্যাক্টো’ ওসি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনও কেসই করা যেত না। এমনকি কাউকে ধরে আনতে গেলেও স্বরূপের অনুমতি লাগত। থানার কোনও অফিসার তাঁর নির্দেশ ছাড়া কাজ করলে, বদলি থেকে চাকরি পর্যন্ত খেয়ে নেওয়ার হুমকি দিতেন বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার স্বরূপকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘লক্ষ্মণ’ ভাই হলেন স্বরূপ। ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। পাঁচটি অভিযোগ এলেও, আরও ৫০টি অভিযোগ রয়েছে। সেখানেও টাকা নিয়েছিলেন। এই টাকা কোথায়, কত টাকা তোলাবাজি করেছেন, তা জানতে তাঁকে হেপাজতে নিতে হবে। স্বরূপের আইনজীবীরা বলেন. তোলাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অস্ত্র দিয়ে ভয়ও তিনি দেখাননি।
  • Link to this news (বর্তমান)