• মৃত্যুর পর ৫ জনের শরীরে ‘জীবিত’ নিউটাউনের যুবক
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৃত্যুও হার মেনে যায়, যখন কোনো পরিবার প্রিয়জনের ব্রেন ডেথের পর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেয়। নিউটাউনের হাতিয়ারার এক গরিব পরবার ঠিক যা করল। ৩১ মে সেই পরিবারের ‘ধ্রুবতারা’ ২০ বছরের যুবক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন।  তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। নিউরোসার্জেন ডাঃ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে চিকিৎসকদের টিমের যাবতীয় চেষ্টা বিফলে যায়। ৩ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ তাঁর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। সেই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তেও তাঁর বাবা-মা অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে অঙ্গ প্রতিস্থাপন কাউন্সেলারের আবেদনে সাড়া দেন। তাঁরা স্থির করেন, ছেলের অঙ্গদান করবেন। এভাবেই সে মৃত্যুর পরও ‘জীবিত’ থাকবে। অঙ্গদান সংক্রান্ত নিয়ামক সংস্থা রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশনের (রোটো) মাধ্যমে ওই যুবকের লিভার বরাদ্দ করা হয়, যে হাসপাতালে তাঁর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে, সেখানকারই এক রোগীর জন্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হরিদেবপুরের ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয় সেই লিভার। তাঁর একটি কিডনি বরাদ্দ করা হয় পিজি হাসপাতালের এক রোগীর জন্য। মুকুন্দপুরের এক নামী প্রাইভেট হাসপাতালের এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজের এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় কিডনিটি সংগৃহীত হয়। রাজ্যের এক নামী প্রাইভেট আই ব্যাংকের তরফে সংগ্রহ করা হয় তাঁর কর্নিয়া দুটি। সেই দুটির মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কর্নিয়ার দুরারোগ্য সমস্যার জন্য অন্ধত্বের শিকার দুই রোগী। 

    এভাবে হাতিয়াড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের অঙ্গদানে নতুন জীবন পাচ্ছেন আরো পাঁচজন। এভাবে ওই পাঁচজনের শরীরে দীপ্যমান থাকবে নিউটাউনের ওই পরিবারের ‘প্রদীপ’। যাঁর অধীনে ভরতি ছিলেন ওই যুবক, সেই নিউরোসার্জন ডাঃ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যদি সেরা দান কিছু হয়, তা হল নিঃস্বার্থভাবে মস্তিষ্কের মৃত্যুর পর প্রিয়জনের অঙ্গদান। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আরো সচেতনতা বাড়ুক।  
  • Link to this news (বর্তমান)