• কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো সম্মানহানি, রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
    বর্তমান | ০৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনধি, কলকাতা: গ্রেপ্তারির পর অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো যায় না। কোনো আসামিকে অপমান কাম্য নয়। এটা করা উচিতও নয়। অন্তত সংবিধান সেকথা বলে না। শুক্রবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেই একথা জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তা নিয়ে উচ্চ আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার নানা প্রান্তে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল নেতা-কর্মী, কাউন্সিলারদের কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। এদিন সেই মামলাগুলির শুনানি হয় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতিদ্বয়ের পর্যবেক্ষণ, পুলিশ এভাবে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোয় ওইসব ব্যক্তির সম্মানহানি হচ্ছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। ইচ্ছে করে এটা যেন না করা হয়, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে।  

    কোন পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি পরানোর প্রয়োজন পড়ছে? শুক্রবার সেই প্রশ্ন তুলেছেন দুই বিচারপতি। রাজ্যের উদ্দেশে ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, ‘পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আইন মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে ফাঁসিতেও চড়াতে পারে। কিন্তু গ্রেপ্তারের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি করতে পারে না।’

    অভিযুক্তের কোমরে দড়ি নিয়ে প্রথম বিতর্ক দানা বাঁধে হাওড়ায়। শিবপুর ও সাঁকরাইলে তোলাবাজি, বোমাবাজি এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে ধৃত কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও স্থানীয় বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরেও সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ধৃত তৃণমূল যুব নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে ‘বনি’-কে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘুরিয়েছিল পুলিশ। এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হন একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, বিচারাধীন বা পুলিশের হেপাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়।

    যদিও শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ধৃতদের বিরুদ্ধে মূলত তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ আধিকারিকদের এহেন আচরণ নিয়ে রাজ্যকে সতর্ক করেছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তদের পালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি? সেক্ষেত্রে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে পুলিশকে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সম্মানের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। চার সপ্তাহ পর নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
  • Link to this news (বর্তমান)