নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশেষে এনআইএ’র জালে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। শুক্রবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানার কামালগাজি থেকে এক শাগরেদ সহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মার্চ মাসে ভাঙড়ের বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁকে খুঁজছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সূত্রেই গত বৃহস্পতিবার শওকতের জীবনতলার বাড়ি-পার্টি অফিস এবং তাঁর ছেলের ক্যাফেতেও হানা দিয়েছিল এনআইএ। যদিও তদন্তকারীরা আসার খবর পেয়ে গা-ঢাকা দেন শওকত। যদিও শেষরক্ষা হল না। এনআইএ সূত্রে খবর, শওকতকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবারও তল্লাশি চলছিল। সন্ধ্যায় তদন্তকারীদের কাছে খবর আসে, কামালগাজি এলাকায় একজনের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন শওকত। সেই সূত্রেই এনআইএ’র টিম পৌঁছে যায় ওই এলাকায়। এক শাগরেদের বাইকে চেপে শওকত সেখানে আসতেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। জানা যাচ্ছে, পলাতক থাকার সময় শওকত তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন। সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মোবাইলে নজরদারি চালিয়েই শওকতকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে এনআইএ। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়কের আশ্রয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারি নয়, আত্মসমর্পণ করেছেন শওকত। স্ত্রী ও কন্যার উপস্থিতিতে বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে এনআইএ আধিকারিকদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে এনআইএ। তাঁর খোঁজ দিলে পুরস্কারও মিলবে বলে জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ধারণা ছিল, রাজ্যের জলসীমানায় লুকোচুরি খেলছেন শওকত। ঘন ঘন অবস্থান বদল করছেন।
বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ বৃহস্পতিবার শওকতের জীবনতলার বাড়ি এবং সোনারপুরের ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালায়। এনআইএ আসার খবর পেয়ে জীবনতলার বাড়ি ছেড়ে পালান এই তৃণমূল নেতা। তদন্তকারীদের কাছে খবর আসে, শওকত বাসন্তীর চুনাখালি এলাকায় আছেন। সেখানকার এক বাসিন্দার বাড়ি পৌঁছে তাঁকে জেরা করা হয়। কিন্তু তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য মেলেনি। বাসন্তী ব্লকের চুনাখালি এলাকার একটি মাদ্রাসায়ও তল্লাশি চলে। তদন্তে জানা যাচ্ছে, শওকত গোটা ছয়েক সিম ব্যবহার করেন। দু’টি ফোন তাঁর সঙ্গে সবসময় থাকত। আর শাগরেদদের কাছে থাকে বাকি ফোনগুলি। কিন্তু ওই মোবাইলগুলির সবকটিই ‘সুইচড অফ’ ছিল। তদন্তকারীদের কাছে খবর, পলাতক অবস্থাতেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে যোগাযোগ রখেছেন এই নেতা। অন্য কারো নম্বর ব্যবহার করার কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন শওকত। প্রশাসনের নাগালের বাইরে থাকতে তিনি ‘ভিপিএন’ ব্যবহার করেছিলেন বলেই অফিসারদের ধারণা। তবে শওকত যে বাংলাদেশে যেতে পারেননি, তা বুঝেছিলেন তদন্তকারীরা। অবশেষে সেই অনুমানই সত্যিই হল। এদিকে, শওকতের গ্রেপ্তারির খবর পেয়ে মিষ্টিমুখ করেন ভাঙড়ের আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা।
গ্রেপ্তারির পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শওকতকে। নিজস্ব চিত্র