• ‘ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কচি নয়’, স্বরূপের শ্লীলতাহানি মামলায় রূপার নিশানায় কারা? কী বলছেন স্বপন দাশগুপ্ত?
    প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
  • টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর উপর। অভিযোগ, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে টলিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। বিগত কয়েক বছরে সিনেপাড়ার অন্দরে বহুবার এমন রব শোনা গিয়েছে যে- ‘টলিউডকে কার্যত দুর্নীতির আখাড়া বানিয়ে ফেলেছেন স্বরূপ!’ এবার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি গ্রেপ্তার হতেই ছাই চাপা আগুনের মতো সেসব ক্ষোভ ‘লাভা’র মতো ফুঁড়ে বেরচ্ছে! তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ‘তুঘলকি স্টাইলে’ মুড়িমুড়কির মতো শিল্পী, কলাকুশলীদের নিষিদ্ধ করার মতো একগুচ্ছ অভিযোগ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এবার টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ স্বরূপ দুর্নীতির দায়ে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে যেতেই মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং স্বপন দাশগুপ্ত।

    রূপার মন্তব্য, “শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কেন? যে কোনও ইন্ডাস্ট্রিতেই মানুষের স্বাধীনতা ওইভাবে গলা টিপে কেড়ে নেওয়া উচিত হয়নি। ভালো কাজ করেননি। দাদাগিরি করার জন্য খুব বেশি পাওয়ারফুল হতে হয় না, একজন দু’জনই যথেষ্ট। আর ওদের সরকারটাই এরকম ছিল। একটা মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সেটা ঠিক কাজই হয়েছে। আমি দেখছিলাম, স্বরূপের বিরুদ্ধে কী কী কেস দেওয়া হয়েছে। তবে আমার একটাই অনুরোধ, ফাঁক তালে কেউ মিথ্যে কেস দেবে না প্লিজ।” এরপরই কারও নামোল্লেখ না করে কার্যত বোমা ফাটালেন পদ্ম শিবিরের নেত্রী-অভিনেত্রী। রূপার সংযোজন, “ন্যায়সঙ্গত ভাবে কেস দেবেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ বাচ্চা নয়। কেউ কচি নয়। কী কেস দিচ্ছেন সেটা দেখে নেওয়া উচিত। আমি দেখলাম, শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের হয়েছে। তাই স্বাধীনতার নামে উশৃঙ্খলতা করে ফেলবেন না। আর সবাই যে এযাবৎকাল ভয়ে ছিলেন, তেমনটা নয়। এখন অনেকেই বলছেন, কিন্তু, আগে যে কথা বলেছেন তার সাথে অনেক ফারাক আছে।” এহেন মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে যে, কাদের নিশানা করলেন রূপা? আসলে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির চারপাশে এযাবৎকাল ইন্ডাস্ট্রির অনেক তারকাকেই ‘উপগ্রহ বলয়ে’র মতো উপবেষ্টিত দেখা যেত। এমনকী প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানেও বহু তারকা নায়িকা, কলাকুশলীদের উপস্থিতি নজর কাড়ত। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে যে, সুবিধে নেওয়ার পর পালাবদলের আবহে যাদের মন্তব্য বেসুরো ঠেকছে, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কি নাম না করে তাঁদেরই বিঁধলেন?

    অন্যদিকে শুক্রবার ‘পিঞ্জর’-এর প্রচারানুষ্ঠানে যোগ দেন স্বপন দাশগুপ্ত। বর্ষীয়ান বিজেপি মন্ত্রী যদিও স্বরূপের গ্রেপ্তারির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন, তবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এহেন দৈন্যদশা নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি! তাঁর মন্তব্য, “একটা সময় ছিল যখন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পর বাংলা সিনেমা ছিল অন্যতম। সেখান থেকে আমরা এখন এমন পর্যায়ে এসেছি যে তামিল-তেলুগু, হিন্দি সব সিনেমা যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলা সিনেমা একেবারে পিছিয়ে পড়েছে। তার নেপথ্যের কারণটা আমার মনে হয় সবাই জানেন। ভবিষ্যতে সেই সমস্যাগুলির সমাধান আমরা করতে পারি কিনা, সেটাই এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে যাওয়াটাই এখন আমাদের কর্তব্য।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)