• ‘বন্ধুরা’ জল পাবে কোথায়? মুশকিল আসানে পড়ুয়ারা
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, পটাশপুর: রবি ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’-এর প্রথম ভাগে লিখেছেন, ‘ডালে আছে ফল। পাখি ফল খায়।’ কিন্তু, এই রোদে-গরমে পাখিরা ফল পেলেও জল পাবে কোথায়?

    কিংবা সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’-এ সেই পথিকের কথাই ধরা যাক। ‘সেই সকাল থেকে হেঁটে’ যাঁর ‘তেষ্টায় মগজের ঘিলু পর্যন্ত শুকিয়ে’ গিয়েছিল। তিনি ঝুড়িওয়ালাকে জানতে চেয়েছিলেন, ‘মশাই, একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন?’

    পটাশপুরের স্কুল পড়ুয়াদের মনে হয়, পথিক কথা বলতে পারতেন। তিনি ঝুড়িওয়ালার কাছে সহজেই জলের খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু, পাখিরা তো মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। আবার ওদের ভাষাও মানুষ বুঝতে পারে না। তা হলে?

    সে মুশকিলও ওরা নিজেরাই আসান করে ফেলেছে। তীব্র গরম ও রোদে পশুপাখিদের জলকষ্ট দূর করতে গাছে গাছে জলের পাত্র ঝোলাচ্ছে পটাশপুরের ইটাচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। সেই সঙ্গে পথকুকুর ও অন্য প্রাণীদের যাতে জলকষ্টে ভুগতে না হয় সে জন্য রাস্তার পাশে ও নিজেদের বাড়ির সামনেও জলের পাত্র রাখছে ওরা। খুদে পড়ুয়াদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

    গরমের ছুটি শেষে স্কুলের পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। তবে গরমের কারণে এখন মর্নিং স্কুল চলছে। হাঁসফাঁস করা গরমে পশু-পাখিদের কষ্টের কথা ভেবে স্কুলের শিশু-সংসদ এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তথা স্কুলের শিশু-সংসদের প্রধানমন্ত্রী সুকমল দাসের কথায়, ‘স্যর বলেছেন, চারপাশের সবাই ও সবকিছুকে নিয়েই আমাদের পরিবেশ। ফলে, পশু-পাখিরাও তো আমাদের বন্ধু। এই সময়ে ওরাও জল না পেয়ে কষ্ট পায়। মারা যায়। সেই কারণেই আমরা ওদের জন্য নানা জায়গায় জল রাখছি। ওরাও খাচ্ছে।’

    শিশু-সংসদের পরিবেশমন্ত্রী, চতুর্থ শ্রেণির সুনীতা পট্টনায়েক বলছে, ‘আমরা চাই, শুধু মানুষই নয় সমস্ত প্রাণী সুস্থ ভাবে বাঁচুক।’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমনকল্যাণ প্রধান বলেন, ‘ছোট থেকেই ওদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতেই এই উদ্যোগ।’

  • Link to this news (এই সময়)