• জেলা সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতির ইস্তফা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে নতুন রাজনৈতিক টানাপড়েন
    এই সময় | ০৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে তৈরি হলো নতুন রাজনৈতিক টানাপড়েন। শুক্রবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক এবং সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী কর তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। উত্তম বারিক মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে আর সুহাসিনী কর জেলা পরিষদের সুপারিন্টেন্ডেন্ট–এর কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতির পদত্যাগ ঘিরে জেলা পরিষদের অন্দরে জল্পনা ছড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে ২০০৮–এ ম আমলেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ প্রথম দখল করেছিল তৃণমূল। সেই সময় জেলা পরিষদের ৫৩টি আসনের মধ্যে ৩৫টি পেয়েছিল তৃণমূল। সভাধিপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন রণজিৎ মণ্ডল। এর পরে ২০২৩–এ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫৬টি আসন জিতেছিল। ১৪টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। উত্তম বারিক সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়ে সহ-সভাধিপতি হন সুহাসিনী কর।

    জেলার রাজনীতিতে এক সময়ে উত্তম বারিক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। ২০২০ তে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তৃণমূলের মধ্যে উত্তমের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন উত্তম। কিন্তু হেরে যান। শুধু তিনি নন, জেলায় ৯টি আসনের কোনওটিতেই খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যেই এ বার তিনি জেলা সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। পদত্যাগের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদ সদস্য প্রদীপ দে। কিন্তু আচমকা এমন সিদ্ধান্ত কেন? উত্তম বারিক জানাচ্ছেন, বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি ও নৈতিক পরাজয় স্বীকার করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন সুহাসিনী কর জানিয়েছেন।

    জেলা সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতির পদত্যাগে বর্তমানে ৭০ আসনের জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮। এর মধ্যে তৃণমূলের ৫৬ জন সদস্যর মধ্যে ২ জনের মৃত্যুতে দলের কার্যকর শক্তি কমে ৫৪তে নেমেছে। দলের ৯ জন কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে শামসুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মানব পড়ুয়ার সঙ্গে অন্য সদস্যদের কোনও যোগাযোগ নেই। বিরোধী দল বিজেপির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৪। তৃণমূল সূত্রের খবর, জেলা সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির পদত্যাগে শুক্রবার জেলা পরিষদের ৭ জন কর্মাধ্যক্ষ জরুরি বৈঠকে বসেন। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সোমবার জেলা পরিষদের অন্য তৃণমূল সদস্যদের উপস্থিতিতে পরবর্তী বৈঠক ডাকা হয়েছে। জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তমালতরু দাস মহাপাত্র জানিয়েছেন, দলীয় কোনও কমিটি সচল না থাকায় তাঁরা নিজেদের অভিভাবকহীন মনে করছেন। সোমবারের বৈঠকেই পরবর্তী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

    জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুচ্ছাইত বলেন, ‘সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন। তবে সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া আইনি ও সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হবে। সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া আইনি ও সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হবে এবং এর জন্য এখনও অনেক সময় বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটাই অনুরোধ করব, সরকারের উন্নয়ন যদি গ্রামে পৌঁছে দিতে হয় তাহলে সরকারের সঙ্গে যেন সহমত পোষণ করা হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)