দ্বিতীয় দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) শেষ লগ্নে ভোট ময়দানে শোরগোল ফেলে ছিল ‘মাছ চোর’ গানটি। সাধারণের দাবি ছিল, ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে বিঁধে বানানো হয়েছিল এই ভাইরাল গান। ভোট পর্ব শেষে সরকার গঠন হয়ে গেলেও এখনও ট্রেন্ডিং এই গান। শুক্রবার রাতে NIA-র হাতে শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারির পর ফের নতুন করে ভাইরাল এই গান। শনিবার সকাল থেকে নিউ টাউনে NIA অফিসের সামনে রীতিমতো বক্স এনে ডিজে বাজিয়ে চলছে উচ্ছ্বাস। একটানা বেজে চলেছে— ‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর/ শওকত তো মাছচোর...।’
শুক্রবার মাঝরাতে ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। ওই মামলার যোগসূত্রে বৃহস্পতিবার দিনভর শওকত মোল্লার বাড়ি ও নানা ঠিকানা তল্লাশি করেছিল এনআইএ। সেই সময়ে গা ঢাকা দেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর ছেলেকে নিয়ে নানা জায়গায় তল্লাশি চালায় NIA।
মৌখালি থেকে শুরু করে বারুইপুর, সোনারপুরের নানা ঠিকানায় ক্যানিংয়ের প্রাক্তন বিধায়কের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। তবু তাঁর দেখা মেলেনি। সে দিনই গভীর রাতে শওকতের খোঁজে বাসন্তীর চুনোখালি এলাকায় আবারও তল্লাশি চালায় NIA। তাতেও খোঁজ মেলেনি। টানা দু'দিন ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পরে কলকাতার রুবি এলাকা থেকে NIA-র হাতে ধরা পড়েন শওকত।
গ্রেপ্তারির পরে রাতেই ধৃত তৃণমূল নেতা শওকতকে নিউ টাউনের NIA দপ্তরে আনা হয়। সেই খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই বাইরে ভিড় জমান শওকতের বিরোধীরা। বাজতে থাকে মাছ চোর গান। এমনকী কেউ কেউ আবার হাতে মাছ নিয়েও হাজির হয়েছিলেন। হাতে ডিম নিয়ে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককের অপেক্ষায় ছিলেন ভাঙড়ের বাসিন্দাদের একাংশও। ক্ষোভ সামাল দিতে উপস্থিত ছিলেন প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী।
NIA আধিকারিকরা শওকতকে আদালতে পেশ করার জন্য বের হতেই ‘চোর-চোর’ বলে বিক্ষোভ শুরু করেন বহু মানুষ। NIA আধিকারিকদের তৎপরতায় ও পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো গিয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভের এখানেই শেষ নয়, বিধাননগর হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে বেরোনোর সময়েও বিক্ষোভ দেখান প্রচুর মানুষ। ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগান। একইরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল ব্যাঙ্কশাল আদালতের বাইরের পরিস্থিতিও। সেখানে ডিম নিয়ে জমা হয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। পুলিশ আগাম সতর্কতা নেওয়ায় নিয়ন্ত্রণে ছিল পরিস্থিতি। তবে আদালত চত্বরে ‘চোর-চোর’ স্লোগানে কান পাতা ছিল দায়। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ভিতরে ঢোকানোর সময়ে একজন খালি জলের বোতল ছুড়ে মারা হয়, যদিও সেটা তাঁর গায়ে লাগেনি।