বাথরুমে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য
আজকাল | ০৬ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: নদিয়ার কৃষ্ণনগরে একটি গার্লস স্কুলের হোস্টেলের বাথরুম থেকে মাত্র ৭ বছর বয়সি এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ছাত্রী সঞ্জনা মণ্ডল প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শনিবার সকালে হোস্টেলের বাথরুম থেকে তার দেহ উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সঞ্জনা কৃষ্ণনগরের কুইন্স বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। বিদ্যালয়টিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আবাসিক হোস্টেলও চালু রয়েছে। আধার কার্ড অনুযায়ী মৃত ছাত্রীর বাড়ি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত রুদ্রদহ সোনাতলা পূর্বপাড়ায়। তার মা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে সৎ বাবা অনিমেষ কুমার সাহাই মূলত শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতেন।
অনিমেষবাবুর বাড়ি কৃষ্ণনগরের সন্ধ্যা মাঠপাড়া এলাকার চাঁদমারী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়। প্রাথমিকভাবে সৎ বাবা কোনও অভিযোগ না করলেও পরে তিনি দাবি করেন, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী সহ পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এবিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সম্ভব জৈন জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকরা সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়, হোস্টেল এবং স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি কীভাবে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলের ভিতরে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।