‘ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টার দিন ধুয়েমুছে সাফ’, সন্দেশখালিতে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জুন ২০২৬
তৃণমূল নেতার বাড়ির লাগোয়া পুকুরে মিলল অস্ত্রভাণ্ডার। সন্দেশখালিতে এসটিএফ হানা দিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ পেয়েছে। সন্দেশখালির মণিপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা রবিন দাস এবং তাঁর ভাই গোপাল দাসের বাড়িতে হানা দেয় এসটিএফ। দু’জনেই শেখ শাহাজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁদের বাড়ি এবং বাড়ি লাগোয়া এলাকার পাশাপাশি তল্লাশি চলে পুকুরেও। তখনই বিপুল পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার হয়। এলাকায় অশান্তি তৈরি করতেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আলোড়ন পড়ে যায় এলাকায়। পুলিশ ও এসটিএফের এই কাজে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, শনিবার এসটিএফ সন্দেশখালিতে তল্লাশি চালিয়ে তাজ্জব হয়ে যান বেঙ্গল এসটিএফের অফিসাররা। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের উপর ভিত্তি করে হানা দেন তদন্তকারীরা। পুকুরে অস্ত্রভাণ্ডারে পর্দাফাঁস করেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত ২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে চম্পট দিয়েছেন ওই পুকুরের মালিক প্রাক্তন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবীন দাস এবং তাঁর ভাই গোপাল দাস। অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকত তাঁরা। শেখ শাহজাহানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সকলকে চমকে রাখত তাঁরা বলে অভিযোগ।
এসটিএফের তদন্তকারীদের সঙ্গেই সন্দেশখালি থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও এলাকায় রয়েছেন। তল্লাশি চলে গোটা এলাকাতেই। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘একটি বড় সাফল্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে সাধুবাদ। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কুমরাখালী, বাসন্তী এবং সন্দেশখালি এলাকার সরবেড়িয়া বাজারের কাছে একাধিক জায়গায় ব্যাপক অভিযান করেছে। শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদের ভাণ্ডার সফলভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে বাহিনী।
তাছাড়া এই দাস ব্রাদার্সে’র অত্যাচারে এলাকাছাড়াও হতে হতো অনেককেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিন সকালে তাঁদের বাড়ি এবং বাড়ি লাগোয়া পুকুরে এসটিএফ হানা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। এদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘আগের সরকারের আমলে স্থানীয়দের ভয় দেখানোর জন্য বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হতো। তার ফলে বহু বিজেপি কার্যকর্তার প্রাণ গিয়েছে। অন্ধকার দিন কেটে গিয়েছে। আমাদের সরকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা সবসময় খেয়াল রাখছি যাতে একটিও বেআইনি অস্ত্র মজুত না থাকে। অসাধু কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টার দিন ধুয়েমুছে সাফ। শান্তি, নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’