• বাড়িতে অন্ত্যেষ্টির তোড়জোড়, ৫ দিন পর এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ থেকে সশরীরে ফিরলেন শেরপা
    প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
  • এভারেস্টের কোলে তিনিও ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর কোনওদিন ফিরে আসবেন না। পর্বতারোহণে গিয়ে পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর এমনটা ধরে নিয়েই পরিবার পরিজন অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববাসীকে অবাক করে এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ থেকে বৃহস্পতিবার ৫২ বছরের হিলারি দাওয়া শেরপাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে নেপালের কাঠমান্ডুতে নামিয়ে আনেন এভারেস্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একদল কর্মী। তিনি ৩০ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অভিজ্ঞ শেরপাকে উদ্ধারের রোমহর্ষক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে বিশ্বের পর্বতারোহী মহলে আলোড়ন তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, হিলারি দাওয়া শেরপা ‘ফ্রস্টবাইটে’ আক্রান্ত এবং বর্তমানে কাঠমান্ডুর এইচএএমএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    এই ঘটনায় রীতিমতো অবাক বিশ্বের মানুষ! অবাক হবেন নাই বা কেন? খাবার এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া তুষারঝড় সামলে কেমন করে বেঁচে ছিলেন নিঃসঙ্গ হিলারি দাওয়া শেরপা সেটাই এখন চর্চার বড় বিষয় হয়েছে। এছাড়াও ৮ হাজার মিটার উঁচুতে যে ডেথ জোনে কয়েকশো পর্বতারোহী চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সেখান থেকে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে বেসক্যাম্পে পৌঁছানোর মরণপণ লড়াই করেছেন। এভারেস্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির এক সদস্য এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে ক্রাম্পন পয়েন্টে নিখোঁজ শেরপাকে খুঁজে পান। কমিটির কর্মীরা শেরপাকে ক্রাম্পন পয়েন্ট থেকে গোরকশেপে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়। 

    নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এভারেস্টের ২৯ হাজার ৩২ ফুট উঁচু চূড়ায় পৌঁছোতে ব্যর্থ হয়ে পোল্যান্ডবাসী এক পর্বতারোহীকে নিয়ে ফেরার পথে দাওয়া শেরপা ক্যাম্প-৩ এবং ক্যাম্প-৪-এর মধ্যে নিখোঁজ হন। তাঁকে শেষ দেখা যায় গত ২৯ মে সাড়ে ৭ হাজার মিটার অর্থাৎ ২৪ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে। পর্বতারোহী বেস ক্যাম্পে ফিরে এলেও দাওয়া ফেরেননি। কেমন করে দু’জন বিচ্ছিন্ন হলেন সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এদিকে পাঁচদিন নিখোঁজ থাকার পর হিলারি দাওয়া শেরপার পরিবার কাঠমান্ডুতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু করে দেয়। কারণ, বেস ক্যাম্পে তার পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল।

    হিলারি দাওয়া শেরপার মেয়ে মেন্ডো লামু শেরপা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার অন্ত্যেষ্টির দ্বিতীয় দিন ছিল। কয়েকদিন ধরে এটা চলে। যখন উদ্ধারের খবর আসে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ওই ব্যক্তি সত্যিই তার বাবা কি না। তাই নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারী দলকে ছবি পাঠাতে বলেন। এরপরই তারা নিশ্চিত হন। জানা গিয়েছে, মে মাসে এক হাজারেরও বেশি পর্বতারোহী ও গাইড এভারেস্ট অভিযান করেছেন। এই মরশুমে পাঁচজন মারা গেছেন। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা অরুণকুমার তিওয়ারি এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে মারা যান।
  • Link to this news (প্রতিদিন)