‘গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অংশ’, অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির
প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে নির্বাচনের আয়োজন করেছে পাক সরকার। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলল ভারত। ইসলামাবাদকে তোপ দেগে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অংশ। এটি অবৈধভাবে ও বলপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মধ্যে রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানও। বেআইনিভাবে দখল করা এই ভারতীয় ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে ঘটে চলেছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা এলাকাগুলিতে বড় কোনও পরিবর্তন আনার যে কোনও প্রচেষ্টাকেই ভারত বিরোধিতা করে। অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে অবিলম্বে খালি করতে হবে।’
এদিকে শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ছিল। সেখানে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠতেই পাকিস্তানকে তোপ দাগে ভারত। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রসংঘের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চের অপব্যবহার করছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়া একটি বড় দায়িত্ব। এটি পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা বয়ান ছড়ানোর কোনও মঞ্চে নয়।” তিনি আরও বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত সমস্ত প্রসঙ্গ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যতেও তা থাকবে। পাকিস্তানের ভিত্তিহীন, ঐতিহাসিক তথ্যবর্জিত, অন্তঃসারশূন্য দাবি এই মৌলিক সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে ভোটের আয়োজন করেছে পাক সরকার। ৭ জুন অর্থাৎ রবিবার সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা। কোনওভাবে নির্বাচনের ফল যাতে বিরুদ্ধে না যায়, তার জন্য সেখানকার সমস্ত বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন থেকে সরানো হয়েছে তাঁদের। গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এমন কিছু রাজনৈতিক দল যারা আদতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। যেমন, ১৯৯৭ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)।