রাজস্থানে পাড়ি দিল মালদহের লিচু, আয়ের নতুন পথ খুলতেই মুখে হাসি চাষিদের
প্রতিদিন | ০৬ জুন ২০২৬
এই প্রথম মালদহ থেকে সরাসরি রাজস্থানে পাড়ি দিচ্ছে মালদহের লিচু। আশানুরূপ ফলন হয়নি। তবু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। এই দাবি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েকের। তিনি জানান, এই বছরও মুম্বইয়ের চাহিদা মেটাচ্ছে কালিয়াচকের লিচু। সেই সঙ্গে পাড়ি দিচ্ছে দিল্লিতেও। নতুন করে যাচ্ছে রাজস্থানে। এর আগে জেলার উৎপাদিত লিচু রাজস্থানে রপ্তানি হয়নি। এই প্রথম যাচ্ছে। ওই রাজ্যের বেশকিছু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই মালদহে এসে কালিয়াচকের লিচু বাগানে ঘুরছেন। গাছে গাছে লিচু দেখে তাঁরা কিনে নিতে সংশয় করছেন না। চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে নগদে কিনে নিচ্ছেন। তারপর কালিয়াচকের বাগান থেকেই লরি বোঝাই করে সড়কপথে লিচু নিয়ে যাচ্ছেন রাজস্থানে। শুক্রবার শাহবাজপুরের বাগানে দাঁড়িয়ে ওই রাজ্যের ব্যবসায়ী জ্যোতি পাশোয়ান বলেন, “রাজস্থানে লিচুর খুব চাহিদা। এতদিন চড়া দামে দিল্লির বাজার থেকে মালদহের লিচু কিনতে হচ্ছিল। এবার আমরা এসে বাগান থেকে সরাসরি নিয়ে যাচ্ছি।”
কালিয়াচকের লিচু চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূল ছিল না। তাই ফলন কম হয়েছে। মুম্বাই থেকে লিচু কিনতে এসে এবার বহু ব্যবসায়ী খালি হাতে ফিরে গিয়েছেন। তবে যেটুকু ফলন হয়েছে, তার একটা অংশ দিল্লি-রাজস্থানে পাড়ি দিচ্ছে। আমরাও ভালো দাম পাচ্ছি।” আমের জেলা হিসাবে মালদহের নামডাক রয়েছে দেশজুড়েই। তবে ইদানিং জেলার লিচু নজর কেড়েছে। মালদহে এখন আমের পরেই লিচুর স্থান। জেলার গঙ্গা নদী সংলগ্ন কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে লিচু উৎপাদন হয়। এই লিচু অত্যন্ত উন্নতমানের। পাতলা খোসা, শাঁসও অনেক বেশি থাকে। রসে ভরপুর। বাজারে এই লিচুর খুব ভালো চাহিদা রয়েছে। মালদহ থেকে লিচু মূলত পাঠানো হয়ে থাকে মুম্বাইয়ের বাজারে।
এছাড়া অসম, বিহার, ঝাড়খন্ডেও ফি বছর লিচু রপ্তানি করা হয়ে থাকে। নতুন করে চাহিদা মেটাচ্ছে দিল্লি-রাজস্থানের। উদ্যানপালন দপ্তরের তথ্য বলছে, জেলায় প্রায় ১৫৫৩ হেক্টর জমিজুড়ে লিচু চাষ হয়েছে। লিচু বাগান বেড়েছে প্রায় ৫০ হেক্টর।যার মধ্যে কালিয়াচক ১, ২ এবং ৩ নম্বর ব্লকেই লিচু চাষের জমির পরিমাণ বেশি। জেলায় ফি বছর গড়ে সাড়ে আট থেকে ন’হাজার মেট্রিকটন লিচু উৎপাদন হয়। কিন্তু এবার অনেক কম পরিমাণ লিচু উৎপাদন হয়েছে। সর্বসাকুল্যে পাঁচ হাজার মেট্রিকটনও নয়। তবে ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীদের আগমনে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।