মঙ্গলকোটে এক রাতে পরপর ৫ মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি! রুপোর মূর্তি-গয়না লুঠ
News18 বাংলা | ০৬ জুন ২০২৬
: পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের ভাল্যগ্রামে এক রাতেই একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বুধবার গভীর রাতে গ্রামের পাঁচটি মন্দির এবং একটি বাড়ির মন্দিরে চুরি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের শিবতলা এলাকায় অবস্থিত তারা মায়ের মন্দিরের তালা ভেঙে মন্দিরে রাখা অলঙ্কার চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত চৌধুরীর বাড়ির মন্দির থেকেও রূপোর লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি, কিছু নগদ অর্থ এবং একটি বালতি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সুব্রত চৌধুরীর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে ঠাকুরঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে। পরে রুপোর লক্ষ্মী ও গণেশের মূর্তি এবং কিছু নগদ অর্থ নিয়ে যায়। অন্যান্য ধাতব সামগ্রীতে হাত না দিয়ে মূলত রূপোর জিনিসপত্রই নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, গ্রামের পূর্বপাড়ার শ্রীধর মন্দিরে তালা ভেঙে রূপোর সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মন্দির সংলগ্ন একটি সিসিটিভি ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। যদিও গ্রামের অন্য একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় মুখ ঢাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির চলাফেরার ছবি ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পশ্চিমপাড়ার অন্নপূর্ণা মন্দির থেকে প্রণামী বাক্সের টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই বাক্সটি গ্রামের একটি পুকুরে উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। দক্ষিণপাড়ার শ্রীধর মন্দির থেকেও রূপোর সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব দে জানান, একই রাতে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগেও ২০২৩ সালে গ্রামে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ভাঙা তালাও সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার খবর মেলেনি। কীভাবে এক রাতে একাধিক ধর্মীয় স্থানে চুরির ঘটনা ঘটল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক।