বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু ভিতরে রয়েছে এক আশ্চর্য যন্ত্র! পুরুলিয়ায় লুকিয়ে দেশের ইতিহাস
News18 বাংলা | ০৬ জুন ২০২৬
: দেখতে অনেকটা ছোট্ট একটি কাঠের বাক্স। বন্ধ অবস্থায় দেখে বোঝার উপায় নেই এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বদেশি চেতনা এবং আত্মনির্ভরতার এক জীবন্ত ইতিহাস। বাক্সটি খুলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অংশ জুড়ে দিলেই তৈরি হয়ে যায় একটি সম্পূর্ণ কার্যকর চরকা। এই পোর্টেবল চরকাই আজও সংরক্ষিত রয়েছে পুরুলিয়ার মানবাজার এলাকার মহাত্মা গান্ধি সেবা সংস্থান ফাউন্ডেশনে। ঐতিহাসিকদের দাবি, এমন চরকাই ব্যবহার করতেন মহাত্মা গান্ধি, যা তিনি সভা-সমাবেশ ও সফরের সময় সহজেই সঙ্গে বহন করতেন।
বর্তমানে এই চরকাকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবাজারের টুক্য ও সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম। এখানকার মানুষ চরকার মাধ্যমে সুতো তৈরি থেকে শুরু করে দেশীয় বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান থেকে জৈব রং তৈরির কাজও চলছে, তবে সেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে চরকা। কারণ চরকাই কাঁচা তুলোকে সুতোয় রূপান্তরিত করে গ্রামীণ শিল্পের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আজও বহু পরিবার এই ঐতিহ্য ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত রুবি রক্ষিত জানান, এই বিশেষ পোর্টেবল চরকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর বহনযোগ্যতা। ছোট বাক্সের মতো ভাঁজ করে রাখা যায় বলে যেকোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাঁর দাবি, গান্ধিজি বিভিন্ন গ্রামে সভা করতে গেলে এই ধরনের চরকাই সঙ্গে রাখতেন। শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, স্বনির্ভরতার শিক্ষাও তিনি চরকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। তাই চরকা শুধুমাত্র একটি যন্ত্র নয়, এটি ছিল এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনের প্রতীক। চরকাকে ঘিরে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্মৃতিও।
গোবিন্দপ্রসাদ সিংহকে নিয়ে লেখা ‘গোবিন্দ দর্পণ’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, বাঁকুড়ার গোবিন্দধাম এলাকায় সফরকালে গান্ধিজির গাড়ি বিকল হয়ে গেলে তিনি স্থানীয় মানুষের অনুরোধে কিছুক্ষণ চরকা কাটেন। সেই স্মৃতি আজও লোকমুখে বেঁচে আছে। আধুনিকতার দৌড়ে যখন বহু ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, তখন পুরুলিয়ার এই গ্রামগুলি চরকার চাকা ঘুরিয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বনির্ভরতার বার্তাকেই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।