এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল এখন ভুতুড়ে জঙ্গল! ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল নিয়ে বড় দাবি বিজেপি বিধায়কের
News18 বাংলা | ০৬ জুন ২০২৬
: জঙ্গলে ঢেকে গেছে একদা এশিয়ার গর্ব! ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল পুনরুজ্জীবনের দাবিতে নতুন করে সরব সকলে। একসময় এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ যক্ষ্মা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ছিল নদিয়ার ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল। প্রায় এক হাজার শয্যার এই হাসপাতাল বহু বছর ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরের অধিকাংশ অংশ জঙ্গল ও আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। ভেঙে পড়ছে একাধিক ভবন। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
সম্প্রতি কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতালের বিষয়টি তুলে ধরে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ। তিনি হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার পাশাপাশি সেখানে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, এত বড় সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। সেটিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার স্বার্থে কাজে লাগানো উচিত। প্রায় ৩০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই হাসপাতাল একসময় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য থেকে বহু রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য আসতেন। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছিল একটি বড় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধীরে ধীরে হাসপাতালের পরিষেবা কমতে শুরু করে। পরে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হলে হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তারপর থেকে আর স্বাভাবিকভাবে পরিষেবা চালু হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালের একাধিক ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। চত্বরের বিভিন্ন অংশ আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নজরদারির অভাবে সরকারি জমি দখলের প্রবণতাও বাড়ছে। যদিও হাসপাতালের কিছু আবাসনে বর্তমানে বিএসএফ জওয়ানরা থাকেন এবং কয়েকজন প্রাক্তন কর্মী এখনও সেখানে বসবাস করছেন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনেও ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল পুনরায় চালুর দাবি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল। এলাকার মানুষের একাংশের দাবি, হাসপাতালটি চালু হলে নদিয়া জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন। এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই ঐতিহাসিক হাসপাতাল নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে কি না, সেটাই দেখার।