• ‘৭ দিনে পদত্যাগ...’, যন্তরমন্তরে হুঙ্কার ‘আরশোলা’দের, পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপির সভাপতি নবীন
    এই সময় | ০৭ জুন ২০২৬
  • নিট কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তা স্রেফ ‘ট্রেলর মাত্র’ বলে উল্লেখ করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে না সরালে, এই লড়াই আরও জোরদার হবে বলেও বার্তা দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ বাকিরা জানালেন, আরশোলারা ভয় পায় না। তারা মরেও না, তাই লড়াই চলবে।

    এই বিক্ষোভ নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসে কিছু লোক ভাবছেন ভারতীয় যুবসমাজকে নির্দেশ দেবেন। ভারতের যুবসমাজ কৃষকদের সঙ্গে গ্রামে বাস করে, কোচিং ইনস্টিটিউটে থাকে, কলেজ ক্যাম্পাসে থাকে। দিল্লিতে বসে থাকা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতের পুতুল হয়ে ভারতের যুবসমাজ কখনও এগোবে না।’

    যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে এ দিন প্রাথমিক ভাবে জট তৈরি হয়েছিল। পুলিশের অনুমতি না মেলার আশঙ্কা করেছিলেন আরশোলারা। সেই কারণে অনুমতি আদায়ের জন্য সমর্থকদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জড়ো হতে বলেছিলেন অভিজিৎ। পরে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে তিনিই জানিয়ে দেন, পুলিশ যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের অনুমতি দিয়েছে। তাই সমর্থকেরা যেন সরাসরি সেখানেই চলে যান। পুলিশের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর সময় যত এগিয়েছে, পড়ুয়াদের ভিড় বেড়েছে। তাঁদের অধিকাংশই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী। নজর কেড়েছে কমবয়সি চাকরিজীবিদের বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতিও।

    বিক্ষোভ চলাকালীন সমর্থকদের উদ্দেশে অভিজিৎ বলেন, ‘ওরা বলেছিল, আরশোলারা রাস্তায় নামবে না। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে দিল, আমরা জীবিত আছি। সরকারের কাছে আমরা কীটপতঙ্গ হতে পারি, কিন্তু আমরা জীবিত এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে পারি।’

    অভিজিৎ আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই করতে চান। সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তাঁরা যেন হাতে একটি বই এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ দিন দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে অভিজিতের হাতে সংবিধান প্রণেতা বিআর আম্বেডকরের আত্মজীবনী ছিল। পুলিশকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানোর বার্তা দিয়েছিলেন আরশোলা পার্টির প্রতিষ্ঠাতারা। সেই মতো এ দিন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ভাবেই পালিত হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়। এক হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন সেখানে।

    সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশ কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে স্বঘোষিত মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে ‘আরশোলা’, ‘পরজীবী’র মতো সিস্টেমকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পরে গত ১৬ মে আরশোলাদের পথচলা শুরু হয়। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হয় সিজেপি। প্রধান বিচারপতি পরে জানিয়ে ছিলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি যুবসমাজকে সমাদরই করেন। কিন্তু তাতে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। উল্টে তা বেড়েছে। তার পরো এই প্রথম কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচি পালন করল সিজেপি।

    আরশোলাদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁদের বিক্ষোভকে সমর্থন করেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ আরশোলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরেও। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘নিট প্রশ্ন ফাঁসে যুব সমাজের অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সরকারকে ওঁদের কথা শুনতেই হবে। আরশোলা অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। এটা কিন্তু সতর্ক হওয়ার বার্তা।’

  • Link to this news (এই সময়)