• সুরেন্দ্রনাথ কলেজের গোপন কথা! শিক্ষার নামে শোষণ?
    আজকাল | ০৭ জুন ২০২৬
  • গোপাল সাহা: গত তিন তারিখ, বুধবার সন্ধ্যায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভয়ঙ্কর চিত্র আসে প্রকাশ্যে। উঁই ধরা কোটি কোটি টাকার পাহাড় এবং একইসঙ্গে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র। তবে এখানেই শেষ নয়! দিনের পর দিন ছাত্র-ছাত্রীদের শোষণ করে চলেছে একপ্রকার এই জঙ্গলরাজ। 

    ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই উঠে এল আরও এক চরম সত্য! নেই ল্যাব, ক্লাস হয় না, অথচ টাকা নেওয়ার দৌরাত্ম্য সীমাহীন! সুরেন্দ্রনাথ কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি। সাধারণ কলাবিভাগের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ল্যাবরেটরি ফি বাবদ হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে, যা আসলে কোনও কাজেই লাগেনি। 

    পূর্বেই এক প্রথম বর্ষের ছাত্র অভিযোগ করেছিল, উপযুক্ত নম্বর থাকা সত্ত্বেও তাঁর থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি করা হয়। এবার এক ছাত্রীর অভিযোগ, ছয় সেমেস্টারে প্রথমে ১৯,১৭০ টাকা বলা হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯,৩৭০ টাকায়। 

    দ্বিতীয় সেমেস্টারেই তিনি ৫,৫০০ টাকা জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে ল্যাব ফি ১,৫০০ টাকা। অথচ কলা বিভাগে ল্যাবের কোনও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসই হয় না। টিউশন ফি, উন্নয়ন ফি, আনুষঙ্গিক খরচ, নামে-বেনামে প্রতি সেমেস্টারে নানা খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। 

    ছাত্রছাত্রীরা বারবার অফিসে গিয়ে হিসেব চাইতে গেলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্টে তৃণমূলের ‘মাতব্বরদের’ দিয়ে শাসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

    টাকার ব্যাগ উদ্ধার: 

    ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, তাঁদের কষ্টার্জিত টাকায় বিলাসিতা করেছেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সংসদ নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ‘কানকাটা দেবু’, তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভজিৎ বর্মণ, শুভজিৎ চক্রবর্তী, সুকান্ত বাহাদুর ও রাতুল ঘোষ-সহ একাধিক ব্যক্তি। 

    এদিকে কলেজের ঠিকাদার পরিতোষ দত্তকে বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। পরিতোষ ‘কানকাটা দেবু’র ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ, ই-টেন্ডারের নিয়ম না মেনে তাঁর সংস্থা থেকে জিনিসপত্র কেনা হয়েছে এবং বিলে অতিরিক্ত টাকা দেখানো হয়েছে। বিল না ছাড়লে অর্থ বিভাগের কর্মীদেরও হুমকি দেওয়া হতো। 

    ১৫ বছরের লুটপাট:

    ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কলেজের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই টাকা ঘুরপথে তৃণমূলের প্রভাবশালীদের পকেটে চলে যেত বলেও অভিযোগ। এখনও পর্যন্ত মুচিপাড়া থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পালাবদলের পরও অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। 

    কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ‘কানকাটা দেবু’ বর্তমানে পলাতক। তাঁকে ধরতে পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষার নামে এভাবে শোষণ চলবে কতদিন?
  • Link to this news (আজকাল)