উত্তরবঙ্গ যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর, NJP স্টেশনে এই বদল না জানলে ঝামেলায় পড়তে পারেন
আজ তক | ০৭ জুন ২০২৬
NJP Utility News: নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি স্টেশনের দক্ষিণ দিকে এবার খুব তাড়াতাড়ি চালু হতে চলেছে একটি নতুন টিকিট কাউন্টার। ইতিমধ্যেই সেই কাউন্টার তৈরির সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলায় খুশির হাওয়া ফুলবাড়ি ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি গোটা রাজগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দাদের মনে। রেল সূত্রের খবর আগামী মাস খানেকের মধ্যেই এনজেপি স্টেশনের দক্ষিণে এই নবনির্মিত টিকিট কাউন্টারের উদ্বোধন হতে পারে।
আসলে এতদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার বা প্রধান দিকটি ছিল উত্তর দিকে ভক্তিনগরের দিকে। গত আড়াই বছর ধরে স্টেশনটির আধুনিকীকরণের কাজ জোরকদমে চলছে। এই আধুনিকীকরণের ফলেই এনজেপি স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আগে এই জংশনে সাকুল্যে ছটি প্ল্যাটফর্ম ছিল যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে দশটি। এই বিশাল নির্মাণ কাজের জন্যই উত্তর দিকে থাকা একমাত্র টিকিট কাউন্টারটিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কয়েকশো মিটার দূরে।
বর্তমানে টিকিট কাউন্টারটি মূল স্টেশন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। স্টেশনের আধুনিকীরণের মূল কাজ শেষ হয়ে গেলে অবশ্য এই কাউন্টারটিকে আবার স্টেশনের ভেতরেই স্থানান্তরিত করা হবে। তবে এই দূরত্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেশমা সিং নামের এক ট্রেনযাত্রী বলেন যে স্টেশন থেকে এখন গাড়ির স্ট্যান্ড অনেক দূরে। মূল স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা আর ধুলোবালি পার করে স্টেশনে ঢুকতে হয় তার ওপর টিকিট কাউন্টার এত দূরে হওয়ায় ভারী ব্যাগপত্র নিয়ে যাতায়াত করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে।
ঠিক এই জায়গাতেই দক্ষিণ দিকের নতুন কাউন্টারটি এক বড় স্বস্তি এনে দেবে। সাউথ কলোনির বাসিন্দা রমেশ সরকার নিজের ক্ষোভ ও আশা প্রকাশ করে বলেন যে এনজেপি স্টেশনের দক্ষিণ দিকে টিকিট কাউন্টার করার জন্য বিগত ২৫ বছর ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। এটি চালু হয়ে গেলে আর এক কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে টিকিট কেটে আবার স্টেশনে ফিরে এসে ট্রেন ধরতে হবে না। এই জনমুখী উদ্যোগ নিয়ে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়ের সঙ্গে কথা বলে দক্ষিণ দিকের এই নতুন টিকিট কাউন্টারটি যাতে দ্রুত চালু করা যায় তার ব্যবস্থা তিনি করবেন। সব মিলিয়ে নতুন টিকিট কাউন্টারটি চালু হলে এনজেপির যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে যে এক নতুন পালক জুড়বে তা বলাই বাহুল্য।