দীর্ঘ অপেক্ষের পরে অবশেষে দিনের আলোর মুখ দেখতে চলেছে নন্দীগ্রাম দেশপ্রাণ রেল প্রকল্প। কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের জোট থেকে তৃণমূল বেরিয়ে আসার পর নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প রূপায়ণের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এ বার নতুন করে এই প্রকল্পটি প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের জন্য পুনরায় কেন্দ্র ও রাজ্যের অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী দক্ষিণ পূর্ব রেল।
কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার উদ্যোগে দেশপ্রাণ নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পটির সূচনা হয়। এই লাইনটি যুক্ত হচ্ছে দিঘা তমলুক রেল লাইনের দেশপ্রাণ স্টেশনের কাছে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে লাইনের জায়গায় মাটি ভরাট, একাধিক ওভারব্রিজ এবং নন্দীগ্রাম স্টেশনের কাজও অনেকটাই এগিয়ে যায়।
কিন্তু মাঝপথে মমতা ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এই প্রকল্পটিকে ক্রমেই ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একটা সময় প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষরাও আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।
দেশপ্রাণ থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৮ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে জমি জটের কারণে থমকে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণে সমস্যা এবং রাজ্য প্রশাসনের তরফে সবুজ সংকেত না মেলায় বরাদ্দ থাকার পরও রেললাইন পাতার মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানালেন, ‘‘৪০ এনওসি সাবওয়ে, ৬০ প্রজেক্ট যা বোর্ড জমি চেয়েছিল সেটা দেওয়া হচ্ছে। বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য দিয়েছি। রেলের মেজর মিশন (৬১) আমরা জমি দিচ্ছি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, জঙ্গলমহল, নন্দীগ্রামের জমি দেওয়া হচ্ছে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, লালগড়, হিলি, সুন্দরবন যা রেল মানচিত্রের বাইরে আছে তা দেওয়া হবে৷’’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোকে অনুরোধ করেন, ‘‘নন্দীগ্রামের প্রজেক্টটা আপনি একটু দেখুন।’’ উত্তরে রেলমন্ত্রী জানান, ‘‘ওটা আমরা নিয়ে আলাদা করে বৈঠক করব৷’’