ভবানীপুরে হেরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলও হাতছাড়া হওয়ার জোগাড়! ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ তৃণমূল বিধায়ককে ভাঙিয়ে বিরোধী দলনেতা হয়ে বসেছেন। একাধিক সাংসদও লাইনে আছেন বলে খবর। এর মধ্যেই জল্পনা ছড়িয়েছে, বহরমপুর আসন থেকে নাকি দলের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা মানতে চাননি পাঠান। পুরো বিষয়টিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও। সৌরভ আগেই ভিত্তিহীন বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন। এবার মুখ খুললেন ইউসুফ পাঠান।
একটি ভিডিওবার্তায় ইউসুফ পাঠানকে জানান, 'বহরমপুর থেকে সাংসদ পদ ইস্তফা দিতে হবে, এমন কোনও কথা বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের কাউকে দিয়ে বলাননি। এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। অথচ এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে'।
এদিকে, শনিবারই বিবৃতি জারি করে যাবতীয় দাবি নস্যাৎ করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলেছেন। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি সাফ জানিয়েছেন, তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক বিষয়ে জড়িত ছিলেন না। এই ধরনের খবর প্রকাশের আগে যেন তথ্য যাচাই করে নেওয়া হয়।
সৌরভের কথায়,'ওই প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যে সমস্ত দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। ইউসুফ পাঠানের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে অনুরোধ করেননি। আমিও এই বিষয়ে ইউসুফের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করিনি'।
একটি বাঙালি দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে বহরমপুরের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ানোর জন্য প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহায্য চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। উদ্দেশ্য, ইউসুফের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে লড়বেন মমতা নিজেই। তবে এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন সৌরভ। স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই খবর ভিত্তিহীন।
সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, তৃণমূলের নজর ছিল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে উঠে এসেছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। বহরমপুরে প্রায় ৫০-৫২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক থাকায় আসনটিকে মমতার জন্য নিরাপদ বলেই মনে করেছিল জোড়াফুল শিবির। সৌরভ ও ইউসুফ আইপিএলেএ কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন। সেই সুসম্পর্কের সূত্র ধরেই সৌরভের মাধ্যমে ইউসুফের কাছে আসন ছাড়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তৃণমূল। ওই রিপোর্টে এও দাবি করা হয়, ইউসুফ পাঠান রাজি হননি।