গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ খান স্যরের
প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
কোচিং সেন্টারে গুলিকাণ্ডে এফআইআর দায়ের হয়েছিল আগেই। অভিযোগ ছিল, নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষক তথা ইউটিউবার ফয়জল খান ওরফে ‘খান স্যর’। এই ঘটনায় শনিবার পাটনা সিভিল কোর্টে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। খান স্যরের উকিলের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আদালতে গিয়েছেন তিনি।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। পাটনার মুসল্লাহপুর হাট এলাকায় খান স্যরের কোচিং সেন্টারের বাইরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, অশান্তির সময়ে সেখানে গুলি চলে এবং আহত হন এক নিরাপত্তারক্ষী। বিষয়টি সামনে আসতেই শয়ে শয়ে পড়ুয়া রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শুরুতে খান স্যরের দাবি ছিল, তাঁর কোচিং সেন্টারের হামলার নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারগুলি। যেহেতু তিনি কম খরচে ছাত্র পড়ান তাই কোচিং মাফিয়ারা তাঁর সেন্টার বন্ধ করতে চায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁরা জানায়, খান স্যরের নির্দেশে সংঘর্ষের সময় তাঁদের পক্ষ থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এই গুলি কাণ্ডে খান স্যরের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্তে নেমে ৫ জুন খান স্যরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় খান স্যরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে। এই পরিস্থিতির মাঝেই শনিবার নিরাপত্তার বেষ্টনীতে আদালতে উপস্থিত হন ওই শিক্ষক। শোনা যাচ্ছে, তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। যদিও তাঁর আইনজীবীর দাবি, আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন খান স্যর।
উল্লেখ্য, পাটনায় কোচিং ইন্সটিটিউটগুলির মধ্যে এই সংঘাত বহুদিনের। ঘটনার তদন্তে নেমে দ্বিতীয় ইনস্টিটিউটটির (জ্ঞান বিন্দু) পরিচালক রোশন আনন্দ এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খান স্যারের দুজন দেহরক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে এই সংঘর্ষে মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ জন।