• ৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি! রেলমন্ত্রীর বুলেট ট্রেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া উত্তরে
    প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
  • রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এক মাস পূরণ হতে বুলেট ট্রেনে ছয় ঘণ্টায় দিল্লি-শিলিগুড়ি জুড়ে দেওয়ার ঘোষণা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রেলমন্ত্রীর ঘোষণাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের বান ডেকেছে উত্তরে। যদিও আগামী জুলাই মাস থেকেই যে বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হতে চলেছে সেই খবর গত ২১ মে ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’-এ প্রকাশিত হয়। শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী জানান, বুলেট ট্রেনে ছয় ঘণ্টায় জুড়বে দিল্লি ও শিলিগুড়িকে। দিল্লি থেকে লখনউ, পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে ট্রেন। এরপরেই আবেগে ভাসেন উত্তরের মানুষ।

    রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ওই বুলেট ট্রেন দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবে। জুলাই মাস থেকে শুরু হবে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ। হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরবঙ্গবাসী শুধু দিল্লিতে নয়, খুব সহজে কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন বারাণসীতে। শিলিগুড়ি থেকে বিহারের পাটনা হয়ে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পৌঁছতে লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লিকে এক সুতোয় বাঁধবে এই উচ্চগতির ট্রেন। ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ এই মেগা রেল প্রকল্পের জন্য বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করেছে। দলটি আগামী জুলাই মাস থেকে আকাশপথ এবং স্থলপথে সমীক্ষার কাজ শুরু করবে। এরপর করিডরের চূড়ান্ত রুট এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি দিক ঠিক করা হবে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ অর্থাৎ ডিপিআর তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে। সেটা হলে রেল বোর্ডে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। 

    তবে শিলিগুড়ি-দিল্লির আগে বুলেট ট্রেন ছুটবে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ রুটে। এটাই হবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন। ট্রেনটি মুম্বই, থানে, সুরাট, বড়োদরা এবং আমেদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে জুড়তে চলেছে। মুম্বই থেকে আমদাবাদ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা। ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল করিডরে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে ওই ট্রেন। ট্রেনের ডিজাইন থেকে শুরু করে সিগন্যালিং এবং সেফটি স্ট্যান্ডার্ড সব কিছুই নেওয়া হয়েছে জাপান থেকে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি মেনে। সেটাই এবার চালু হতে চলেছে নিউ জলপাইগুড়ি-দিল্লি করিডরে।

    রেলমন্ত্রীর ঘোষণার পর উত্তরের বণিকসভা এবং পর্যটন সংস্থার কর্তারা মনে করছেন, শিলিগুড়ি-দিল্লি বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরে পর্যটন শিল্পে জোয়ার আসবে। চা শিল্পের অনেক সুবিধা মিলবে। নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রজত কার্জি বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য জরুরি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। উত্তরবঙ্গ চা শিল্প নির্ভর। বুলেট ট্রেন চালু হলে এখানকার চা শিল্পপতিরা খুবই কম সময়ের মধ্যে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারবেন।” অন্যদিকে হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু জানান, বুলেট ট্রেনে মাত্র ছয় ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে উত্তরের ডুয়ার্স ও পাহাড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। শুধু তাই নয়, এই ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন দিক খুলে যাবে বলেও আশাবাদী রাজ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)