ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিমে ভূমিধসে একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্লাবিত হয়েছে মালবাজারে রাজা চা বাগানের মাঠ। ভারী বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছে সেবকেও। যদিও রাতের মধ্যে পাথর-মাটি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। এছাড়াও শুক্রবার রাতে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ির পাটারাম জোত। ডুয়ার্সের নাগরাকাটায় সুখানী বস্তির কাছে ভাঙা বাধ দিয়ে জল ঢুকে জলমগ্ন হয়েছে প্রচুর বাড়ি। এদিকে শুক্রবার গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়িতে নেমে আসার পথে তিস্তায় গাড়ি উলটে নিখোঁজ হয়েছেন এক পরিবারের চার সদস্য। তিস্তা নদী এলাকায় এনডিআরএফ-এর তল্লাশি অভিযান চলছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সেবকে। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৬৪ মিলিমিটার। এছাড়াও কুমারগ্রামে ১৪৮ মিলিমিটার, গুরজংঝোরা চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় ১৩৫ মিলিমিটার, চিলোনি চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় ১২৯ মিলিমিটার এবং মালবাজারে ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে সেবকে ধস নামে। জাতীয় সড়কের উপর ধস নামায় প্রায় ৩ ঘণ্টা শিলিগুড়ি থেকে সিকিম এবং ডুয়ার্সের পথ অবরুদ্ধ ছিল। অন্যদিকে, পাহাড়ি ঝোরাগুলো ফুসে ওঠে। হড়পা বানে নিউ মাল থেকে মালবাজার যাওয়ার পথে রাজা চা বাগান এলাকা জলবন্দি হয়। জাতীয় সড়কের একাংশ জলে তলিয়ে যায়।
শুক্রবার সন্ধ্যার ভারী বৃষ্টিতে নাগরাকাটা ব্লকের সুখানী বস্তির রেলের লালপুলের কাছে ভাঙা বাধ দিয়ে জল ঢুকে প্রচুর বাড়ি জলবন্দি হয়েছে। আতঙ্কে বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেয়। রাতেই ঘটনাস্থলে যান নাগরাকাটার বিডিও জয়প্রকাশ মন্ডল, সুলকাপাড়ার প্রধান শীতল মিস্ত্রি, দুই পঞ্চায়েত সদস্য সুদামা উরাও ও বিপতা মুন্ডা। বিজেপি নেতা শঙ্কর ছেত্রী, অমিত ভুজেল, রাজীব সান্তাল ও ওমপ্রকাশ রায় উদ্ধার কাজে নামেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাগরাকাটা ব্লকের উত্তরে ভুটানের পাহাড়েও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তারই জেরে সুখানী নদীর জল হুহু করে বেড়ে লালপুলের কাছে ভাঙা বাধ দিয়ে ঢুকে পড়ে উত্তর সুখানী বস্তিতে। বিডিও জানান, ভাঙা বাধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে।
উল্লেখ্য গতবছর ৫ অক্টোবর হড়পা বানে নাগরাকাটা ব্লক লণ্ডভণ্ড হয়। মৃত্যু হয় ১২ জনের। স্বভাবতই শুক্রবারের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। এদিকে এক রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি এলাকার পাটারাম জোত। ভেঙে পড়েছে ২৫টি কাচাবাড়ি। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎহীন হয়েছে গোটা গ্রাম। বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলছে সিকিমেও। শনিবার সকালে দিকচু-সিংতাম সড়কের রাংচাং ভির এলাকায় ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।