‘পদে পদে বাধা দিত আগের সরকার’, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ দেখে তৃণমূলকে তোপ রেলমন্ত্রী বৈষ্ণবের
প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
“আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার উন্নয়নের বিরোধী ছিল। পদে পদে বাধা দিত।” এমনই অভিযোগ করলেন কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। আজ, শনিবার বিকেলে চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ দেখতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী। সেই কাজ ঘুরে দেখার ফাঁকেই গত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে দুষলেন তিনি। চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ আটকে রেখেছিল তৃণমূল। তারা উন্নয়ন চাইত না। সেই অভিযোগ করেন তিনি। কলকাতা মহানগরের জন্য মেট্রো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই কথা এদিন জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
আজ, কলকাতায় সকালে আসেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গত ৫ বছরে মেট্রো ও বিভিন্ন রেল প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এবার ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ হবে। সেই কথা জানানো হয়েছে। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য-কেন্দ্রের মধ্যে ছিল ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাব। তার ফলে বাংলায় রেল উন্নয়ন থমকে ছিল। তবে সরকারের পালাবদলে সে সমস্যা মিটে যাবে। তেমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
এদিন বিকেলে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ খতিয়ে দেখতে বাইপাস এলাকায় যান রেলমন্ত্রী। কাজ খতিয়ে দেখার পর গত তৃণমূল সরকারকে বেঁধেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পদে পদে বাধা দিত, উন্নয়নের বিরোধী ছিল। তৃণমূলের সময়ে চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ আটকেছিল। এই কাজ আটকানোর জন্য আদালতেও গিয়েছিল তৎকালীন সরকার। আদালত নির্দেশ দিলেও সেই শুরু হয়নি। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেই কাজ হল। দিন কয়েকের মধ্যে এতদিনের থমকে থাকা কাজ হয়ে গেল। এই ঘটনায় প্রমাণ, এমনই জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। গত সরকারের আমলে প্রায় দেড় বছর আটকে ছিল চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই সেই জটিলতা কেটেছে। মাত্র ১২০ ঘণ্টারও কম সময়ে দু’দফায় মেট্রো লাইন জোড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
১৫ মে রাত ৮ টা থেকে ১৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৬০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ ছিল প্রথম দফার কাজের জন্য। এই সময়ের মধ্যে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে ২৮ মিটার দীর্ঘ একটি ভায়াডাক্ট বসানো হয়েছিল। ওই সময়ে ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙাগামী লেন আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছিল। যান নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশ কয়েকদিন। ঠিক তার ৪ দিন পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার কাজ। ২২ মে রাত ৮টা থেকে ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এই দফাতেও ৬০ ঘণ্টায় ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ত বসানো হয়েছে। সুতরাং দু’দফার মোট ১২০ ঘণ্টায় তিনটি পিলারের মধ্যে ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এই কাজের জন্য ইএম বাইপাসের ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কে ট্র্যাফিক সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়।