• বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতি, হকারের পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি বিধায়ক কৌস্তভের
    প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
  • আজ নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকে রাজ্যে অন্যান্য মন্ত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিধায়করাও। সেই বৈঠকেই উঠে আসে বরানগর-বারাকপুরের মেট্রো প্রকল্পের বিষয়টি। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি এবং প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে রেলমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন কৌস্তভ (Koustav Bagchi)। পাশাপাশি বারাকপুরের স্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে আবেদন জানান তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন কৌস্তভ রেলমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে হকার উচ্ছেদের বিষয়টিকে মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করার আর্জিও জানান। এবং তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়েও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    প্রায় ১৬ বছর আগে বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। গত সরকারের আমলে একাধিক জটিলতার কারনে মেট্রো পরিষেবা এখনও অধরা বারাকপুরবাসীর কাছে। তবে এবার বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই ব্যারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি, রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এই প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদনের আবেদন জানান তিনি।

    শুধু মেট্রো পরিষেবা নয়, বারাকপুর স্টেশনের আধুনিকীকরণের জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে একাদিক দাবি তুলে ধরেন বিধায়ক। চিঠিতে তিনি লেখেন, বারাকপুর স্টেশনে মা তারা, ভাগীরথী, তিস্তা-তোর্সা, কাটিহার, শিয়ালদহ-বলিয়া, পূর্বাঞ্চল, গৌড়বঙ্গ, কলকাতা-গুয়াহাটি গরিব রথ ও গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালুর কথাও বলা হয়েছে। বিধায়কের দাবি, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও বহু গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন সেখানে থামে না। পাশাপাশি ব্যারাকপুর স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অধীনে উন্নত করা, স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ এবং ১৪ নম্বর রেলগেটে আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজনের কথাও তুলে ধরা হয়। কৌস্তভের আরও দাবি, ‘১ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ। দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজের জন্য প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ। ১৪ নম্বর রেলগেটে উড়ালপুল বা সুড়ঙ্গ তৈরি করে যানজট কমানো।’ প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে বারাকপুর ও টিটাগড় স্টেশনে লিফট অথবা এসকেলেটর বসানোর দাবিও তুলে ধরেন চিঠিতে। এছাড়াও নতুন টিকিটি কাউন্টার, উন্নত শৌচালয়, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থার দাবিও উঠে আসে রেলমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিজেপি বিধায়কের আবেদন চিঠিতে হকার উচ্ছেদের বিষয়টিও যথেষ্ট তাৎপর্ষপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। চিঠিতে কৌস্তভ লেখেন, স্টেশন চত্বরে হকারদের উচ্ছেদের বিষয়টি মানবিকতা ও সহানুভূতির সঙ্গে পর্যালোচনা করা হোক। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়েও রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য রেলমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এই প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন কৌস্তভ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)