• পশ্চিমবঙ্গে আসছে বিনিয়োগের জোয়ার! আদানির পর লার্সন-টিউব্রো, আমূল কর্তার সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
    প্রতিদিন | ০৭ জুন ২০২৬
  • দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে এবার কি রাজ্যে শিল্পের ব্যাপক জোয়ার আসতে চলেছে? দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পথেই কি পা বাড়াচ্ছে বাংলা? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে একাধিক জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আদানির গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের দু’দিনের মাথায় এবার লার্সন-টিউব্রোর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বসনে শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

    শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে লার্সেন অ্যান্ড টিউব্রোর চেয়ারম্যান এস. এন. সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। কলকাতা বিমানবন্দরে প্রায় আধঘণ্টার সাক্ষাতের পর নিজেই এক্স মাধ্যমে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এক্স মাধ্যমে শুভেন্দু লেখেন, ‘রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সর্বোপরি যুব সমাজের কর্মসংস্থান তৈরির মতো বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।’ পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও ব্যাপক বিনিয়োগের কার্যকরী পরিবেশ গড়ে তোলাই একমাত্র লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেল এই বৈঠকটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণ’-এর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

    এদিন নবান্নে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী জয়েন মেহতা এবং আমূল ডেয়ারির কর্ণধার শ্রী অমিত ব্যাস সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে আমূলের মতো বৃহৎ, স্বনামধন্য সংস্থার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুগ্ধশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে এক্স মাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ ও আমূলের পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন শিল্পের নতুন দিক উন্মোচন হবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গত, বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক করেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির বড় ছেলে করণ আদানি। নবান্ন সূত্রের খবর, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মূলত রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্র, লজিস্টিক্স হাব তৈরি এবং গ্রিনফিল্ড সড়ক নির্মাণের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয় ।

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নতুন সরকার বারবার দাবি করে আসছে যে, তারা বাংলায় স্বচ্ছ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের অন্যতম শীর্ষ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। শিল্পপতিরা এ রাজ্যে বিনিয়োগে উদ্যোগী হলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান যে তৈরি হবে তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)